৮ দফা দাবিতে ত্রিপুরায় বিশাল মিছিল তৃণমূলের, নেতৃত্বে কুণাল-শান্তনু

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের(TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে রাজ্যের পাশাপাশি এবার ত্রিপুরাতেও(Tripura) একাধিক কর্মসূচি পালন করছে ঘাসফুল শিবির। শনিবার সকালে আগরতলায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় এই কর্মসূচি। এরপর ত্রিপুরার বনমালীপুরে তৃণমূল নেতা সুবল ভৌমিকের বাড়ির সামনে থেকে ৮ দফা দাবি তুলে বিশাল মিছিল বের করল ঘাসফুল শিবির। এই মিছিলকে নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ(Kunal Ghosh), সাংসদ শান্তনু সেন(Shantanu Sen) এবং সুবল ভৌমিক(Subal Bhaumik)। ৮ দফা দাবিতে বলা হয়েছে, ১. ১০৩২৩ শিক্ষক ও সর্বশিক্ষা শিক্ষকদের নিয়মিতকরণ, শূন্য পদ পূরণ ও বেকারদের চাকরি, পেট্রোল ডিজেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, ২০০ দিনের কাজ ও বেকারদের মজুরি বৃদ্ধি, সরকারি ঘর সুষ্ঠুভাবে বন্টন, লাগামহীন দুর্নীতির তদন্ত, তৃণমূল কর্মীদের উপর প্রতিনিয়ত আক্রমণ ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদ।

তৃণমূলের এই মিছিলে উপস্থিত হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “ত্রিপুরাতে বামফ্রন্ট সরকার ব্যর্থ হয়েছে, বিজেপির আমলে আরও অপশাসন দেখছে এখানকার মানুষ। ত্রিপুরার জনগণ চাইছেন এবার রাজ্যের তৃণমূল সরকার গঠিত হোক। বাংলা কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজ সাথী, স্বাস্থ্য সাথীর মত প্রকল্পগুলি সুবিধা পাক ত্রিপুরার সাধারণ মানুষও। শুধু তাই নয় ত্রিপুরায় নিজস্ব যে সমস্যা ১০ হাজারের বেশি শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়েছে। বিজেপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেন এই বিষয়টিকে মানবিকভাবে দেখা হবে বলে ঘোষণা করেছিল কিন্তু তা হয়নি। তৃণমূল এই সমস্যাকে মানবিক ভাবেই দেখবে।” শুধু তাই নয়, এদিন কুণাল ঘোষ আরো বলেন, “বিপ্লব দেবের সরকার চোরাবালির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে যেকোনো মুহূর্তে সরকার পড়ে যেতে পারে অনেকেই তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে তবে বিধায়ক ভাঙিয়ে নয় ত্রিপুরাতে মানুষের জনসমর্থন নেই আর কয়েক মাস পর ক্ষমতায় আসতে চলেছে তৃণমূল।”

আরও পড়ুন:‘তৃণমূলকে চাইছে ত্রিপুরার মানুষ’, TMCP-র প্রতিষ্ঠা দিবসে বার্তা শান্তনু-কুণালের

পাশাপাশি সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, “আজ তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ত্রিপুরার ৫৮ টা ব্লক, ৬০টা বিধানসভা কেন্দ্র ৩৩২৮ টা বুথে কর্মসূচি পালন করছি। আজকে তৃণমূলের প্রতি ত্রিপুরার মানুষের ভালোবাসা ও জনসমর্থন এই মিছিল কে সমৃদ্ধ করেছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ অংশগ্রহণ করেছে মিছিলে। জনসমর্থনের এই ঢেউ আছড়ে পড়বে ২০২৩- এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সেটা বুঝতে পেরেছে। তাদের পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে আর তার জন্যই তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে দাঁত নখ বের করতে শুরু করেছে। আমি শুধু একটা বার্তা দিতে চাই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক হলো ঘাসফুল আর ঘাসফুল যত কাটবে তত বেশি করে বেড়ে উঠবে। মারবে যত বাড়বে তত এভাবে তৃণমূলকে আটকে রাখা যাবে না।”

advt 19