Thursday, March 5, 2026

৭১-এর হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’র স্বীকৃতি দেওয়া হোক, প্রস্তাব মার্কিন মুলুকে

Date:

Share post:

বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে পাকিস্তান সরকারকে। সম্প্রতি আমেরিকার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি সভায় (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস), বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সেখানকার ‘বাঙালি জাতি, প্রধানত হিন্দু ধর্মীয়দের’ উপরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যে ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল, তাকে ‘গণহত্যা’ (জেনোসাইড) হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।শাসক ডেমোক্র্যাট পার্টির ভারতীয় বংশোদ্ভূত নেতা রো খন্না এবং বিরোধী রিপাবলিকান পার্টির স্টিভ সাবো— আমেরিকার প্রতিনিধি সভার দুই প্রভাবশালী সদস্য যৌথ ভাবে এই প্রস্তাবটি আনেন। সেই প্রস্তাবেই ‘গণহত্যা’র জন্য পাকিস্তান সরকারের ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি তোলা হয়।

আরও পড়ুন:বুচা গণহত্যা: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি মোদি- বাইডেনের

১৯৭১-এর মার্চে  বাঙালীদের উপর ভয়াবহ অভিযান চালায় পাকিস্তানি সেনারা। অভিযানটির নাম দেওয়া হয়  ‘অপারেশন সার্চলাইট’। বাংলাদেশজুড়ে ভয়ানক হত্যাকাণ্ড চালায় তারা। নৃশংসভাবে খুন করা হয় বহু মানুষকে।  বেশ কিছু মানবাধিকার সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ হিসাবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দানের লক্ষে সচেষ্ট, যাতে অর্ধ শতাব্দী পরেও খলনায়কদের চিহ্নিত করে আদালতে বিচার করা যায়।

ওহায়োর সদস্য স্টিভ সাবো প্রস্তাবটি পেশ করে টুইটে লিখেছেন, ‘আজকের বাংলাদেশে পাকিস্তানের সেনারা যা ঘটিয়েছিল, তা নাৎসিদের ইহুদি হত্যার মতো গণহত্যাই। বহু লক্ষ মানুষকে তারা হত্যা করেছিল, যাদের প্রায় সকলেই বাঙালি এবং ৮০ শতাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী।’ সাবো লিখেছেন, ‘একাত্তরের এই গণহত্যাকে ভুলে যেতে দেওয়া যায় না। নিহতদের স্বজনদের অনুভূতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। এমন ভয়ঙ্কর অপরাধ যারা করেছে, তাদের কঠোর শাস্তি দিয়ে এমন ঘটনা আর যাতে না-ঘটে তা নিশ্চিত করতে সবার আগে পাকিস্তানি সেনাদের এই দুষ্কর্মকে গণহত্যা বলে সরকারকে স্বীকৃতি দিতে হবে।’ যদিও একাত্তরের যুদ্ধে আমেরিকা পাকিস্তানের সমর্থনে অবস্থান নিয়েছিল।গণহত্যাকে আড়াল করতেও সচেষ্ট ছিল তখনকার প্রশাসন।

পেশ করা প্রস্তাবে এ-ও বলা হয়েছে, ১৯৭১-এর ২৮ মার্চ ঢাকার আমেরিকার কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ঘটনাপ্রবাহকে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক গত মাসেই আহ্বান জানিয়েছিলেন, নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাক সেনার ভয়াবহ অত্যাচার এবং নির্মম নিধনলীলাকে গণহত্যার তকমা দিতে এগিয়ে আসুক আন্তর্জাতিক সমাজ। ২৫ মার্চ দিনটিকে বাংলাদেশ ‘জাতীয় গণহত্যা দিবস’ হিসাবে পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

spot_img

Related articles

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে বিশ্বের দুই ভাগ স্পষ্ট: ভারতের কী হবে, প্রশ্ন

হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও দেশের জাহাজ যাবে না। ঘোষণা করার পর আবার মত বদল ইরানের। চিনকে (China) অনুমতি...

রাতভর CEO দফতরে ধর্নায় বামেরা! BJP-র বি-টিম তকমা মুছতে দেরিতে কমরেডরা, ব্যাখ্যা তৃণমূলের

নির্বাচন ঘোষণার আগে হঠাৎই সিইও দফতরে বামেরা। একদিকে নির্বাচনের আগে খাস কলকাতায় বহুদিন পরে লাল ঝাণ্ডা যে এখনও...

সেমির আগে ভক্তিতে আস্থা, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জানুন ভারতের সম্ভাব্য একাদশ

টি২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup Final)ফাইনালে উঠার লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীবারের সন্ধ্যায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারত(India)। মুম্বই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই...

নাবালকের হাত থেকে চলল গুলি! মানিকচকে আহত ৩

মালদহের মানিকচকে দোল নিয়ে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বুধবার সন্ধ্যায় রঙ খেলাকে কেন্দ্র করে গুলি চলার (firing)...