Saturday, April 18, 2026

কসোভো ও সার্বিয়ার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, নজর রাখছে রাশিয়া

Date:

Share post:

পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধের মধ্যে বলকান অঞ্চলে সাবেক যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হওয়া কসোভো ও সার্বিয়ার মধ্যে উত্তেজনা  বেড়েই চলছে। গত সোমবার সার্বিয়া তার সশস্ত্র বাহিনীকে যুদ্ধের জন্য ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে’ রাখার ঘোষণা করে। কসোভোতে বসবাসকারী জাতিগত সার্বদের সঙ্গে প্রিস্টিনা সরকারের দ্বন্দ্বের জেরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের দিকে  গড়ানোর প্রবল সম্বাবনা। সার্বিয়ার সাবেক প্রদেশ কসোভো ২০০৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

বিশ্বের বেশ কিছু দেশ স্বীকৃতি দিলেও সার্বিয়া এখনো কসোভোকে স্বীকৃতি দেয়নি। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা গত সোমবার থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রূপ নিয়েছে। ওই দিন সার্বিয়ার সেনাবাহিনী কসোভো সীমান্ত থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে বড় ধরনের কামান ও ট্যাংক মোতায়েন করে। এর আগে সম্প্রতি কসোভোর উত্তরে সার্ব জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত এলাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর শান্তিরক্ষী বাহিনী কসোভো ফোর্স (কেএফওআর) বলেছিল, সার্বদের স্থাপন করা ব্যারিকেডের কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা, কী উদ্দেশে গুলি ছুড়েছে তা নিশ্চিত নয়।

ওয়াকিবহাল মহলের মত, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর কসোভোর সঙ্গে সার্বিয়ার উত্তেজনা ইউরোপের বলকান অঞ্চলের ঐতিহাসিক বিবাদকে সম্প্রতি আবার চাঙ্গা করার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে। রাশিয়ার সঙ্গে সার্বিয়ার পুরনো মিত্রতার কারণে এ নিয়ে যুদ্ধের শঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ বলকান অঞ্চলে ‘সার্ব বিশ্বের’ স্বপ্ন দেখেন। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কার্তিকে তুলনা করে ‘ছোট জেলেনস্কি’ আখ্যা দিয়েছেন ভুসিচ।

ঐতিহ্যগতভাবেই সার্বরা রাশিয়ার প্রতি ভ্রাতৃপ্রতিম। কারণ রুশদের সঙ্গে তারা নৃতাত্ত্বিকভাবে ঘনিষ্ঠ। ইউক্রেন আক্রমণের কারণে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের আরোপিত অবরোধে সার্বিয়া অংশ নেয়নি। তথ্য বলছে, সার্বিয়ার ৮০ শতাংশ মানুষই রাশিয়ার ওপর অবরোধের বিরোধী।

জাতিসংঘে কসোভোর সদস্য পদ ঠেকাতে রাশিয়াকে প্রয়োজন সার্বিয়ার। রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জোটের ২২টি দেশসহ বিশ্বের ১০০ দেশের স্বীকৃতি পাওয়ার পর জাতিসংঘভুক্ত হতে চায় কসোভো। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ‘ভেটো ক্ষমতা’ প্রয়োগ করে তা ঠেকিয়ে দিতে পারে।

কসোভোতে সার্ব পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের জেরে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মন্তব্যে তা স্পষ্ট। কেএফওআর কর্তৃপক্ষের কাছে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ আহ্বান জানিয়েছেন যাতে কসোভোর উত্তরাঞ্চলে সার্বিয়ার বাহিনীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কার্তি কেএফওআরের কাছে দাবি করেছেন ওই এলাকার প্রবেশমুখে সার্বদের ব্যারিকেড তোলার ব্যবস্থা করতে। কসোভোর সার্বরা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তির পাশাপাশি ওই এলাকা থেকে বিশেষ পুলিশ প্রত্যাহারের দাবি করেছে। কসোভোর মূল অংশের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে তারা।

 

Related articles

২০২৩-এ পাস হওয়া বিল আনুন: মহিলা সংরক্ষণে বিজেপির মিথ্যাচারে দাবি প্রিয়াঙ্কার

বিলে রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করলেন। তারপরেও বিল আইনে পরিণত হল না ৩ বছর ধরে। এবার ডিলিমিটেশনের ছাতার তলায় সেই...

মোহনবাগান সাফল্য পেলে কেন ব্যর্থ লখনউ? কারণ জানালেন গোয়েঙ্কা

আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টের (Lucknow Super Giants) মালিক এবং আইএসএলে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের (Mohun Bagan Super Giant) প্রধান...

কত বড় জাতির নেতা! কাকে কটাক্ষ তৃণমূল সভানেত্রীর

শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কী বিষয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ...

শওকত আমার ডানহাত: নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার চক্রান্তে সোচ্চার মমতা

নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির নামে যথেচ্ছ নিয়ম বদল করে আরোপ করে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তারপরেও...