Saturday, March 7, 2026

ত্রিপুরায় গিয়ে বাংলায় কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা স্বীকার শুভেন্দুর

Date:

Share post:

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরায় হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন। বাংলার প্রতিবেশি এই ছোট্ট রাজ্যে এবার মূলত চতুর্মুখি লড়াই। একদিকে ডাবল ইঞ্জিন শাসক বিজেপি, অন্যদিকে বাংলার মতো “অশুভ” জোট গড়ে লড়াইয়ের ময়দানে বাম-কংগ্রেস। এছাড়াও ভোটের লড়াই জমিয়ে দিয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল। রয়েছে তিপ্রা মথাও। সবমিলিয়ে জমজমাট ত্রিপুরার ভোট।

আরও পড়ুন:সাগরদিঘি উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ এক হোটেল ব্যবসায়ী, পরিচয় করে নিন

সম্প্রতি দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আগরতলায় ঐতিহাসিক পদযাত্রা করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ কিলোমিটার পথে হেঁটেছেন অগুনিত তৃণমূল সমর্থক। ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য, ছোঁয়ার জন্য আগরতলার রাজপথে নেমেছিল মানুষের ঢল। অন্যান্য দলের তারকা প্রচারকরা যখন হুডখোলা গাড়িতে উঠে রোড-শো করছেন, তখন পায়ে হেঁটে তৃণমূল নেত্রীর প্রচার কিন্তু ত্রিপুরার মানুষের মনে দাগ কেটেছে। মমতাই ফ্যাক্টর, বুঝে ত্রিপুরা ছুটে গিয়েছেন বাংলার বিরোধী দলনেতা তথা দলবদলু বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রয়াসে বিগত পাঁচ বছরে নাকি ব্যাপক ত্রিপুরার উন্নয়ন হয়েছে, রাজ্যে নাকি শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে বিজেপির আমলে। একটি নির্বাচনী প্রচারে দাবি শুভেন্দুর। যা শুনে ঘোড়াও হাসছে। প্রশ্ন উঠছে, এতই যখন উন্নয়ন, এতই যখন শান্তি, তাহলে ভোটের ৬ মাস আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কেন বদল করতে হল? কেন বিপ্লব দেবকে সরিয়ে মানিক সাহাকে বসাতে হল মুখ্যমন্ত্রীর কুরশিতে? উত্তর নেই শুভেন্দুর কাছে।

তবে ত্রিপুরায় নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে অবচেতন মনে পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা স্বীকার করে ফেলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে শুভেন্দু আচমকা বলে ফেলেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার মানে কী? ভারতের দিল্লিতে যে সরকার আছে, সেই একই দলের সরকার যদি রাজ্যে থাকে তাহলেই কাজ হবে, অন্যথায় পশ্চিমবাংলার মতো ত্রিপুরা মানুষকেও বঞ্চিত করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও প্রকল্প হয় না। কারণ, রাজ্যে বিজেপি সরকার নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল ইঞ্জিন সরকার রয়েছে। তাই
রেল লাইন, বিমানবন্দর, সিপোর্ট কিচ্ছু হবে না। অর্থাৎ, বিজেপিকে ভোট না দিলে কেন্দ্র ত্রিপুরাবাসীকেও তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করবে কেন্দ্র, সেটা তাঁর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু। যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গণতান্ত্রিক ভাবে ত্রিপুরার মানুষকে ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা শুনিয়ে শুভেন্দু ভয় দেখাচ্ছেন বলেই অভিযোগ বিরোধীদের।

 

spot_img

Related articles

আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে! দ্রৌপদীর অনুযোগের পাল্টা ধুয়ে দিলেন মমতা

”আমি দুঃখিত কিন্তু বলতে বাধ্য হচ্ছি, ম্যাডাম, আপনাকে বিজেপি ব্যবহার করছে”- ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর অনুযোগের...

কমিশনকে কড়া তোপ, গেরুয়া শিবিরকে ছড়ার ছন্দে তুলোধনা দেবাংশুর

ধর্মতলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃতে ধরনার দ্বিতীয় দিনে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে ধুয়ে দিলেন তৃণমূল আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু...

লজ্জা! জাপানের কাছে ১১ গোল হজম ভারতীয় মহিলা দলের

কল্যাণ চৌবের আমলে ভারতীয় ফুটবলের কলঙ্কের নতুন অধ্যায় সংযোজিত হল। এএফসি উইমেন্স এশিয়ান কাপে (AFC Women's Asian cup)...

বিধানসভায় ভিত পুজো, এরপরে লালকেল্লায় ভাষণ দেবেন মমতাদি: চ্যালেঞ্জ কুণালের

বাংলা-বিরোধী কেন্দ্রীয় সরকারের SIR-এর মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যার প্রতিবাদে ও বাংলার বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ধর্মতলায় ধর্না...