Monday, May 11, 2026

প্রসূতি মৃ.ত্যুর হার কমাতে বিশেষ উদ্যোগ, আধিকারিকদের কড়া বার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

Date:

Share post:

সিজার পরবর্তী সময়ে প্রসূতির যে যত্ন নেওয়ার কথা, তা অনেক ক্ষেত্রেই ঠিকঠাকভাবে নেওয়া হচ্ছে না। আর সেকারণেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ সহ একাধিক কারণে এড়ানো যাচ্ছে না প্রসূতি মৃত্যুর (New Born Baby) সংখ্যা। আর সেই বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এবার বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)। রাজ্যের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, এবার বেসরকারি হাসপাতাল (Private Hospital) বা নার্সিংহোমে (Nursing Home) প্রসূতি বা সদ্যোজাতর মৃত্যুর বিশদ তথ্য সরকারি ‘মাতৃ মা’ পোর্টালে নথিভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি পোর্টালে কিভাবে নাম নথিভুক্ত করতে হবে সেই বিষয়ে হাসপাতালগুলির প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর (Health Department)।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত একটি বৈঠকে এই বিষয়ে সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে অনর্থক সিজার নিয়েও। তবে শুধু সরকারিই নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলিও যাতে মাতৃ-মা পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করতে পারে সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য ভবনের তরফে। এছাড়াও, এসএনসিইউ-তে (SNCU) পরিচ্ছন্নতার অভাবে অনেক সময় সেপসিস হয়ে মারা যাচ্ছে সদ্যোজাতেরা, সেই বিষয়েও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, প্রসূতি ও শিশুর মৃত্যু প্রত্যাশামতো কমানো যাচ্ছে না বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়ে গিয়েছে সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই মায়ের মৃত্যুর ঘটনা। আর সেকারণেই এদিনের বৈঠকে স্বাস্থ্য দফতর সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে ব্লক স্তরে যেখানে যেখানে ডেলিভারি হয়, সেই সমস্ত জায়গায় কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে দেখতে হবে বাড়ি নয়, সন্তান যেন হাসপাতালেই প্রসব করে। তবে গত এক দশকে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বেড়ে গিয়েছে সিজারের সংখ্যা। তার একটি কারণ যেমন গ্রাম বাংলায় বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা বৃদ্ধি, তেমনই অপর কারণ হল, সরকারি হাসপাতালে অ্যানাস্থেটিস্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্তাদের অভিজ্ঞতা হলো, সিজ়ার পরবর্তী সময়ে যে যত্ন প্রসূতির নেওয়ার কথা, তা অনেক ক্ষেত্রেই নেওয়া হচ্ছে না। ফলে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং অন্য নানা কারণে এড়ানো যাচ্ছে না প্রসূতির মৃত্যু। স্বাভাবিক প্রসবের হার যেখানে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ও সিজারের হার ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হওয়া উচিত, সেখানে শহরাঞ্চলে সিজারের হার প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে প্রায় ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

 

 

Related articles

নবান্নে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬ সিদ্ধান্ত: সামাজিক প্রকল্প বন্ধ না হওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের এই...

চন্দ্রনাথ খুনে উত্তরপ্রদেশ-বিহার থেকে গ্রেফতার ৩! পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

চন্দ্রনাথ খুনে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহার থেকে গ্রেফতার ৩ দুষ্কৃতী। তিন জনের মধ্যেই রয়েছে শার্প শ্যুটারও। এই ঘটনায় শুভেন্দু-সহ...

নবান্নের আগে দলীয় কার্যালয়: সোমবার সকাল থেকেই কর্মব্যস্ত রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী

শপথ গ্রহণ হয়েছে শনিবার। তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ সোমবার থেকেই শুরু করতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)।...

পুলিশের সামনে আগুন ১০ দোকানে! ডবল ইঞ্জিন দুর্ভোগ তুলে ধরে সরব অভিষেক

রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force)। সদ্য ক্ষমতায় আসা বাংলার বিজেপি সরকার দাবি করছে...