কোভিড কালে সাধ করে গাড়ি কিনেছিলেন হুগলির (Hooghly)গবেষক অধ্যাপক। সেই থেকে নিজের গাড়ি করেই বাড়ি থেকে কর্মস্থলে নিত্য যাতায়াত ছিল মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vidyasagar University)অধ্যাপক কোন্নগরের নন্দিনী ঘোষের (Nandini Ghosh)। সোমবারও এক সহকর্মীর সঙ্গে ওই এক রুটে ফিরছিলেন। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি এটাই শেষ সফর। উলুবেড়িয়া ১৬ নং জাতীয় সড়কে কুলগাছিয়ার কাছে এক মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় মৃত্যু হল চালক সহ তিন জনের। গাড়িতে নন্দিনীর সঙ্গে ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরের নিশা রায় (Nisha Roy)এবং গাড়ি চালক বিশ্বজিৎ দাস (Biswajit Das)। তাঁর বাড়ি হুগলির উত্তরপাড়া (Uttarpara, Hooghly)এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মুম্বই রোডের উপরে ট্রেলারের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। চারচাকা গাড়িটি কোলাঘাটের দিক থেকে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেলারটি যাচ্ছিল কলকাতা থেকে খড়্গপুরের দিকে । দ্রুত গতিতে থাকলেও ট্রেলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। তারপর ডিভাইডার পেরিয়ে ছোট গাড়িটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।তাতেই এই দুর্ঘটনার ঘটে। এমন প্রতিভাবান গবেষকের মৃত্যুতে শোকাহত গোটা কোন্নগর।



নন্দিনী ২০১৮ সালে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস ইন্সটিটিউট থেকে বোটানি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। প্রায় দশ বছর ধরে অধ্যাপনা করছেন। প্রথমে শ্রীরামপুর কলেজ ও পরে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার সুযোগ পান। কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল ৮ টায় বেরিয়ে রাত ৮টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসতেন, কিন্তু সেই চেনা রুটিনের ছেদ ঘটল গতকাল। অন্যদিকে চালক বিশ্বজিৎ দাস, কানাইপুরের বাসিন্দা। বয়স মাত্র ৩১, পেটের টানে ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতে শুরু করেছিলেন । একবছর আগেই পিতৃ বিয়োগ হয়েছিল। মাস তিনেক আগে বিয়ে করেন তিনি। গতকাল স্ত্রীকে ফোন করে জানিয়েছিলেন তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরবেন। বাড়িতে সবাই আশা করে বসেছিলেন। কিন্তু ফিরল ছেলের মৃতদেহ। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুতে সংসারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই ঘটনায় কানাইপুর পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান আচ্ছেলাল যাদব বলেন তিনি চেষ্টা করবেন পরিবারকে যতটা সম্ভব সাহায্য করার। উত্তর ২৪ পরগনার নিশার মৃত্যুও মেনে নিতে পারছেনা পরিবার।













