রেশন বন্টন মামলায় প্রথম চার্জশিট পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। চার্জশিটে নাম রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও রেশন ডিলার বাকিবুর রহমানের। দু’জনেই আপাতত জেলে আছেন। এছাড়া ১০টি সংস্থার নাম রয়েছে চার্জশিটে। মঙ্গলবার সকালে বিশেষ ইডি আদালতে চার্জশিট পেশ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
প্রসঙ্গত, রেশন বন্টন মামলায় প্রথমে বাকিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বাকিবুরকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত অক্টোবর মাসে রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। তারপর শুরু হয় ইডির জিজ্ঞাসাবাদ। ইডির দাবি, এই মামলার তদন্ত যত এগিয়েছে, তত স্পষ্ট হয়েছে জ্যোতিপ্রিয়–বাকিবুরের যোগসাজশের বিষয়টি। এদিন চার্জশিটেও সেই যোগসাজশের উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

১৬২ পাতার চার্জশিটে ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে, ১০০ কোটি টাকার গরমিল হয়েছে। তবে তদন্তের শেষে টাকার এই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছে ইডি। এই মামলার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।
তদন্তকারীরা আগেই দাবি কতরেছিলেন, রেশন দুর্নীতির টাকা অন্য খাতে বিনিয়োগ করতে শুধুমাত্র নিজের স্ত্রী-কন্যাই নন, শ্যালক এবং শাশুড়িকেও ব্যবহার করেছিলেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। রেশন বণ্টন মামলায় অবৈধ উপায়ে পাওয়া টাকাকে বৈধ করতে জ্যোতিপ্রিয় ভুয়ো সংস্থা খুলেছিলেন বলেও দাবি করে ইডি। এই সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়-‘ঘনিষ্ঠ’ মিল মালিক, ইডির হাতে ধৃত বাকিবুরও।

ইডির দাবি, সংস্থাগুলির মাধ্যমে মূলত দুর্নীতির টাকা অন্য খাতে বিনিয়োগ করা কিংবা শেয়ার কেনাবেচার কাজ চলত। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে আগেই জানা গিয়েছিল, এমনই তিনটি সংস্থায় বিভিন্ন সময়ে ডিরেক্টর পদে ছিলেন মন্ত্রীর কন্যা এবং স্ত্রী। ইডির দাবি, এই তিনটি সংস্থায় বিভিন্ন সময়ে ডিরেক্টর পদে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়ের শ্যালক এবং শাশুড়িও। তদন্তে বাকিবুরের নামেও পাঁচটি ভুয়ো সংস্থার সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা।









