Saturday, March 14, 2026

গভীর রাতেই হাসপাতালে আহতদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, ত্রাণ শিবিরে দুর্গতদের আশ্বাস

Date:

Share post:

রবিবার বিকেলে তিন মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড জলপাইগুড়ি ময়নাগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রশাসনের তৎপরতায় এবং স্থানীয় মানুষের সাহায্যে উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। রাত ১টা নাগাদ জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখে বেরিয়ে একথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। আহতদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রশাসন, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

আচমকা ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার বিকেলের এই দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত শতাধিক। ঘটনার খবর পেয়েই, রবিবার রাতেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমানবন্দরের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী, জানান এমসিসি কোড চলছে বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন না। প্রশাসনের তরফে দুর্গতদের সব রকম ভাবে সাহায্য করা হবে। সেখান থেকে তিনি যান বিপর্যয়ে স্বজনহারা দুই পরিবারের কাছ। তাদের সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান জলপাইগুড়ি হাসপাতালে। সেখানে আহত প্রত্যেকের বেডের কাছে গিয়ে কথা বলেন তিনি। চিকিৎসকদের কাছে জানতে চান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা। সকলকে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, প্রশাসন পাশে আছে।

পরে সংবাদ মাধ্যমকে মমতা (Mamata Bandopadhyay) জানান, ভয়ংকর বিপর্যয় হয়েছে। যেভাবে ঘূর্ণিঝড় হয়েছে, তা দেখলে শিউরে উঠতে হয়। উদ্ধার কাজ শেষ হয়েছে। প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান স্থানীয় মানুষ এবং প্রশাসনের সাহায্যে দ্রুত আহতদের হাসপাতালে পৌঁছানো গিয়েছে। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মমতার কথায়, সবচেয়ে বড় ক্ষতি পাঁচজনের মৃত্যু। এই ক্ষতি অপূরণীয়- মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায় যাঁরা চলে গিয়েছেন, তাঁদের তো আর ফেরানো যাবে না। তবে যাঁরা আছেন, তাঁদের সুস্থ করে তুলতে সব রকম ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘরবাড়ি নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। প্রশাসনের তরফে যা যা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সবই করা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

জলপাইগুড়ি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সোজা ময়নাগুড়ির ত্রাণ শিবিরে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলেন। তাকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখন সুস্থ হয়ে উঠতে হবে। বাড়ি ঘরের বিষয় প্রশাসন দেখে নেবে। প্রশাসন পাশে আছে- আশ্বাস দেন মমতা। ময়নাগুড়ির বার্নিশ গ্রাম যেখানে সমস্ত বাড়িঘর ধুলিস্যাৎ হয়ে গিয়েছে, সেই জায়গা পরিদর্শন করেন মমতা। জানান সোমবার আলিপুরদুয়ারে ক্ষয়ক্ষতি দেখতে যাচ্ছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।



spot_img

Related articles

কলকাতায় শুষ্ক আবহাওয়া, শনিবার বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে!

উইকেন্ডে সকাল থেকে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও বেলা বাড়তে রোদের দাপট চওড়া হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal weather)। কলকাতায়...

IPL শুরুর আগেই নাইটদের বিরাট ধাক্কা, টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলেন হর্ষিত!

আগামী মাসের শুরু হচ্ছে আইপিএলের (IPL) নতুন সিজন। ইতিমধ্যেই প্রত্যেক দল নিজেদের টিম মেম্বারদের নিয়ে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি...

দেশজুড়ে গ্যাস সংকট, মোদির সভার আগে দেদার সিলিন্ডার ব্যবহার করে রান্না বিজেপির

রাজ্যে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। শনিবার দুপুরে কলকাতার ব্রিগেডে সভা করবেন তিনি। সকাল থেকে কলকাতামুখী...

নন্দীগ্রাম গণহত্যার ১৯ বছর পার, শহিদদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মুখ্যমন্ত্রীর 

১৯ বছর আগে আজকের দিনে রক্তাক্ত হয়েছিল নন্দীগ্রাম (Nandigram)। পাল্টে গিয়েছিল বাংলার রাজনীতির প্রেক্ষাপট। বলা যায়, বাংলার রাজনৈতিক...