রাজনৈতিক পরিবারের জামাই হলেও সেভাবে কখনোই রাজনীতিতে সক্রিয় হতে দেখা যায়নি। শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) দেশ ছাড়তেই এবার নজরে তাঁর স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিঞা (M A Wajed Mia)। ২০০৯ সালে তিনি প্রয়াত হলেও শেখ হাসিনাকে নিয়ে চর্চার মাঝে নতুন করে উঠে এল তাঁর স্বামীর প্রসঙ্গ। ইতিমধ্যে নাম সামনে আসতেই অনেকেই ইন্টারনেটে ওয়াজেদ মিঞাকে নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়েছে।


জানেন কে ছিলেন হাসিনার স্বামী?
পীরগঞ্জের রংপুরের বাসিন্দা ছিলেন মহম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ মিঞা। রংপুর থেকে ম্যাট্রিক পাশ করার পর রাজশাহী কলেজে লেখাপড়া। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা নিয়ে পঠনপাঠন শেষের পর তিনি চলে যান বিদেশে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা শেষ করেন। ১৯৬৭ সালে পিএইডি ডিগ্রি পান তিনি। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের কর্মী হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। করাচির গবেষণাগারে কাজ করতেন তিনি। করাচি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের চিফ সায়েন্টিস্ট ছিলেন ওয়াজেদ মিঞা। পরবর্তীতে ইতালির ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিক্সে যোগ দেন তিনি। এছাড়াও পদার্থবিদ্যার ওপর তাঁর লেখা একাধিক বই আছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পঠনপাঠনের সময় সাময়িকভাবে ছাত্র আন্দোলন করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পর আর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না ওয়াজেদ।



উল্লেখ্য, বাংলাদেশে যখন মুজিবর রহমান ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করা হয়, তখন ওয়াজেদ মিঞার সঙ্গেই জার্মানিতে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তথা মুজিব-কন্যা শেখ হাসিনা। জার্মানিতে তখন পরমাণু বিজ্ঞানে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দেশে না ফিরতে পেরে ভারতে আসতে চেয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে অনুরোধ জানান হাসিনা। মেলে অনুমতিও। এরপরই সপরিবারে হাসিনা চলে আসেন দিল্লিতে। দুই সন্তান, স্বামী ও বোনকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লিতে ছিলেন তিনি। সেই সময় ভারতে চাকরিও করতেন ওয়াজেদ মিঞা। দিল্লিতে অ্যাটমিক এনার্জি কমিশন অব ইন্ডিয়ায় গবেষণার কাজ করতেন তিনি। পরে বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনে যোগ দেন। ১৯৯৯ সালে সেখানকার চেয়ারম্যান থাকাকালীন অবসর নেন ওয়াজেদ মিঞা। তবে বিপাকে পড়ে হাসিনার ভারতে আশ্রয়ের বিষয়টি নতুন কিছু নয়। আগেও একাধিকবার দেশে অশান্তির কারণে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। তবে তিনি প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে যোগ দিলেও স্বামী ওয়াজেদ মিঞা রাজনীতির গণ্ডির বাইরে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তবে স্ত্রী ও সন্তানদের পাশে তিনি যেকোনও কঠিন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ অসুস্থতার পর ২০০৯ সালে মৃত্যু হয় তাঁর।















