দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম জমানার পতনের সন্ধিক্ষণে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে প্রাক্তন করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছিলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ পৃথক হলেও বিগত কয়েক বছরে প্রতিটি মুহূর্তে বুদ্ধবাবুর শারীরিক খোঁজ খবর চালিয়ে গিয়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। প্রতিনিয়ত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। শেষবার যখন কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বুদ্ধদেব, তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন মমতা। বাইরে এসে জানিয়েছিলেন বুদ্ধবাবু তাঁকে দেখে হাত নেড়েছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করলেন বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।


আজ বৃহস্পতিবার বুদ্ধবাবুর প্রয়াণের সংবাদ পেয়ে মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) শোকজ্ঞাপন করেন। এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক ও দুঃখিত। আমি গত কয়েক দশক ধরে তাকে চিনি। বিগত কয়েক বছরে যখন তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং বাড়িতে ছিলেন তখন আমি তাকে কয়েকবার দেখতে গিয়েছি। এই শোকের মুহূর্তে মীরাদি ও সুচেতনের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আমি সিপিআই(এম) পার্টির সদস্য এবং তাঁর সমস্ত অনুগামীদের সমবেদনা জানাচ্ছি।”

প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তাঁর ঝাড়গ্রাম সফরে যাওয়ার কথা। দুপুরে সেই সফরে রওনা হওয়ার আগে বুদ্ধদেবকে অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শেষযাত্রায় সমস্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সহযোগিতা করবে রাজ্য সরকার। তিনি জানান, দুই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিমকে তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন রাজ্য সরকারের তরফে বিষয়টি তদারক করার জন্য।

সংবাদ মাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘‘আমরা রাজ্য সরকারের তরফে থেকে ওঁর শেষযাত্রায় সমস্ত শ্রদ্ধা দিয়ে যাবতীয় সহযোগিতা করব। ওঁর দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেখানে যেখানে ওঁরা অন্তিমযাত্রায় ওঁকে নিয়ে যেতে চান, তার সুষ্ঠু দেখভালের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। যদি ওঁরা নন্দনে বা বিধানসভায় ওঁকে নিয়ে যেতে চান, আমরা সমস্ত সহযোগিতা করব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আর যেখানে ওঁরা ওঁকে শায়িত রাখার সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি সেখানেই গিয়ে ওঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে আসব।’’

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘‘রাজনীতি রাজনীতির জায়গায়। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায়। রাজনীতি আর মানবিকতা আলাদা। রাজনীতি মানবিকতাকেই সবচেয়ে আগে সম্মান জানায়। খুব খারাপ লাগছে। ওঁর মুখটা মনে পড়ছে। ওঁর স্ত্রী খুব ভাল। যখনই ওঁর বাড়িতে গিয়েছি, ওঁর স্ত্রী যত্ন করে, সম্মান দিয়ে কথা বলতেন।’’

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালেও তিনি প্রাতঃরাশ করেন। তারপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা আসার আগেই তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মমতা সহ বাকি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা।

আরও পড়ুন:শুক্রবার আলিমুদ্দিন থেকে বুদ্ধদেবের শেষ যাত্রা, হবে দেহদানও: দলের সিদ্ধান্ত জানালেন সেলিম

