Wednesday, May 6, 2026

যে পথে যেতে হবে সে পথে তুমি একা: বুদ্ধদেবের প্রয়াণে স্মৃতিমেদুর মমতা

Date:

Share post:

রাজনৈতিক দিক থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে তাঁদের অবস্থান। একজনের উত্থানেই একজনের প্রস্থান। একজনকে সরিয়েই ক্ষমতায় আসেন আরেকজন। তবু পারস্পরিক সৌজন্যের সম্পর্ক কখনও নষ্ট হয়নি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Budhadev Bhattacharya) ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল (TMC) সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রয়াণের পরে স্মৃতিমেদুর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, মৃত্যুতে মানুষের শেষ হয় না। তিনি বেঁচে থাকেন মানুষের মনে কাজের মধ্যে দিয়ে।সিঙ্গুর আন্দোলন। বাংলার রাশ তখন থেকেই যেতে শুধু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতে। ক্ষমতা বদল হয়ত ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই সময় তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর বাড়িতে বুদ্ধদেব-মমতা বৈঠক হয়। এদিন সেকথা বারবার মনে পড়ছে মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি বলেন, “সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় রাজ্যপাল ছিলেন গোপালকৃষ্ণ গান্ধী। ওঁর বাড়িতে মিটিং দেখেছিলেন। সেখানে বুদ্ধবাবুর সঙ্গে দেখা হয়েছিলেন। গোপালকৃষ্ণ গান্ধী ভরা থাক স্মৃতি সুধায় গানটির প্রথম স্তবক বলে জিজ্ঞেস করেছিলেন এর অন্তরাটা বলো। আমি বলে দিয়েছিলাম, যে পথে যেতে হবে সে পথে তুমি একা।“পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি থাকায়, এদিনই পাম অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে গিয়েই শেষশ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের প্রতি জানান সমবেদনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধি বুদ্ধদেববাবু। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, একাধিক দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। ওঁর মৃত্যু রাজ্যের জন্য ক্ষতি। অনেক বার ওঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। যত বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, আমরা দেখতে গিয়েছি। সবসময় সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, যা আমাদের কাছে বড় প্রাপ্য ছিল। ওঁর মৃত্যুর বয়স হয়নি। অন্য সমস্যা ছিল। শ্বাসকষ্ট হতো। বউদি জানালেন, আজ সকালেও ব্রেকফাস্টের পর শ্বাসকষ্টে হঠাৎ চলে গিয়েছেন।”

পারিবারিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে তুলে মমতা বলেন, “অনেক ব্যক্তিগত কথা আছে, আজ সেটা বলার দিন নয়। কখনও সময় পেলে নিশ্চয়ই বলব। আজ পরিবারের পাশে থাকার দিন। ওদের দল নেতাকে হারিয়েছে। অন্য় দল করলেও, ওদের প্রতি সম্পূর্ণ সমবেদনা রয়েছে। আমি যখন আসতাম, যতদিন ভাল ছিলেন, গল্প করতেন, অনেক কথা বলতেন। সেগুলো ব্যক্তিগত স্তরেই, বাইরে আনতে চাই না।”

সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ওঁর পরিবার, মীরা বৌদি, সুচেতন, সিপিএম, বামফ্রন্ট এবং সহনাগরিকদের সকলকে সমবেদনা জানাই। ওঁ অনেক অবদান, এটা সেই আলোচনার জায়গা নয় যদিও। আসুন প্রার্থনা করি, ওঁর আত্মা শান্তি পাক। মারা গেলেই জীবন শেষ হয়ে যায় না, কাজের মধ্যে দিয়ে মানুষের মনে থেকে যান। বার বার এই বাংলার মাটিতেই ফিরে আসুন আপনি।”মুখ্যমন্ত্রী জানান, “২০১১ সালে উনি আমার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও এসেছিলেন।” মমতার স্মৃতিতে বাবরি মসজিদের সেই অশান্ত সময়র কথা। জানান, “এমনকী বাবরি মসজিদের সময়, আমি মহাকরণের সময় গিয়ে দেখা করে বলেছিলাম কোনও কাজে লাগলে জানাবেন। একসঙ্গে মিলে সমস্যার মোকাবিলা করতে গিয়েছিলাম। ওঁর বাড়িতে গিয়ে কথা হতো। মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতে পারে। রাজনৈতিক সৌজন্য সবার উপরে। অসুস্থ থাকলেও বুদ্ধবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। চোখ দেখাতে গেলে গ্রিন করিডর করে দিতাম। আমি সবাইকে মনে করিয়ে দেব রাজনৈতিক সৌজন্যতায় যেন মানবিকতার মৃত্যু না হয়। আমার খারাপ লাগছে। মুখটা মনে পড়ছে। ওঁর স্ত্রী খুব ভাল। যত্ন করতেন যখনই যেতাম।”






Related articles

‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু’! বিজেপির অফিসিয়াল ঘোষণার আগেই ভাইরাল পোস্টার ঘিরে বিতর্ক

দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলা বিজেপি (BJP) এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায়...

৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মুম্বই বিমানবন্দর, চরম যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কা 

৬ ঘন্টা বন্ধ থাকতে চলেছে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Mumbai Airport) । বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৭ই মে...

কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন, কোথাও গুলিবিদ্ধ বামকর্মী; জেলায় জেলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ছবি

ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার (post poll violence) ছবি...

অভিষেকের বাড়ি-অফিসের সামনে থেকে সরল পুলিশি নিরাপত্তা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) নিরাপত্তাও শিথিল হল, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি শান্তিনিকেতনের...