সকাল গড়িয়ে সন্ধে তবু পাম অ্যাভিনিউয়ের মন খারাপ এখনও কাটছে না। ৫৯ এ ঠিকানায় আজ চাপা কষ্ট। চিরকালের মতো দু কামরার ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে গেছেন বাংলার দুবারের মুখ্যমন্ত্রী। বুদ্ধদেবের বিদায়ে আজ রাজ্য – রাজনীতিতে শুধুই স্মৃতিচারণা। খবরের শিরোনামে ‘নিপাট’ ‘ভদ্রলোক’ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের (Buddhadeb Bhattacharya)কর্মজীবনের নানা কোলাজ। বামপন্থীদের রক্তক্ষরণ, প্রিয় মানুষের চোখের জল, সাহিত্য- সাংস্কৃতিক জগতের আলোচনা থেকে অনেক দূরে রক্তিম পতাকা বুকে নিয়ে এখন তিনি তপসিয়ার পিস ওয়ার্ল্ডে। দুপুরে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নিথর দেহ যখন শববাহী শকটে তখন পাম অ্যাভিনিউ জুড়ে থিকথিকে ভিড়। আচমকাই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শান্তি দাস (Shanti Das)। পরিচয়, একসময় তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। তাঁর কথায়, ‘দাদা ছিল অনেক সাহস পেতাম। কোনও ভয় কাজ করত না। ৫০-৬০ বছর ধরে পাশাপাশি থাকা। আর দেখতে পাব না দাদাকে। ভেবেই তো কান্না পেয়ে যাচ্ছে।’


৮০ বছর বয়সি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে সর্বক্ষণ দেখভাল করতেন হরেন অধিকারী (Haren Adhikari)। ডিম আর মিষ্টি দই প্রিয় বর্ষীয়ান বামনেতার দিনযাপনের খুঁটিনাটি জানাতে গিয়ে সেবক বলছেন বই ছাড়া একমুহূর্ত থাকতে পারতেন না। নিয়মিত রবীন্দ্রসঙ্গীত (RabindraSangeet)শুনতেন। একটা সময় সিগারেট ছাড়া থাকতে পারতেন না। ফুসফুসের সমস্যা হওয়ার পরও চিকিৎসকদের পরামর্শ ফুৎকারে উড়িয়ে সুখটান চলতই। খাওয়াদাওয়ার নির্দিষ্ট রুটিন ছিল। রোজ রাতে ডিম দেওয়া হতো। বুধবার রাতে আলু-পটলের তরকারি, ডিমের তরকারি আর মিষ্টি দই দিয়ে খেয়ে ঘুমিয়েছিলেন বুদ্ধবাবু। সেটাই ছিল শেষবারের মতো খাওয়া। বৃহস্পতিবার সকালে সব শেষ। বারবার হাসপাতালে যাওয়া, বাড়ি ফেরা, নিজের ঘরকেই প্রায় হাসপাতালে পরিণত করে ফেলা বুদ্ধদেবের জীবনের শেষ অধ্যায়গুলো নিয়ে আজ চারিদিকে চর্চা। রাতে সমস্যা না হলেও সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। হরেন জানান, ‘বাইপ্যাপ দেওয়া হলেও কাজ হয়নি। ওষুধ দেওয়া হয়, কিন্তু ওঁর এতটাই সমস্যা হচ্ছিল যে ওষুধটা খেতে পারেননি, ফেলে দেন।’ এতদিন ধরে যাঁকে বাবার মতো সেবা করেছেন আজ তিনি চলে যাওয়ায় সব ফাঁকা। মন খারাপ হরেনের। এ শূন্যতা যে পূরণ হওয়ার নয়।













