সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি। আর সেই দিনই প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। তার আগের সন্ধেয় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের (CV Anand Bose) সেই ফোন মুখ্যমন্ত্রীকে। রাজভবন (Rajbhaban) সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক ডেকে এখনই কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে (Vinit Goyel) অপসারণ করা হোক- এই দাবি জানিয়েই না কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছেন রাজ্যপাল বোস। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে যখন তদন্ত করছে সিবিআই, মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে, তখন হঠাৎ বিনীত গোয়েলকে সরানোর দাবি জানিয়ে কেন ফোন করেছেন রাজ্যপাল? তার কি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর আস্থা নেই? কারণ যদি আরজি করের ঘটনায় কোনোভাবে কলকাতার নগরপালের জড়িত থাকার প্রমাণ থাকে তাহলে কেন তাঁকে একবারও তলব করা হল না? সুপ্রিম কোর্টেই বা কেন এই মামলায় বিনীত গোয়েলকে যুক্ত করার নির্দেশ দিল না!
দীর্ঘদিন ধরেই নবান্নের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই চলছে রাজভবনের। যেকোনও বিষয় নিয়েই সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে চাইছেন রাজ্যপাল বোস। অভিযোগ, শাসকদলের সম্প্রতি রাজভবনে তরুণী কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে খোদ আনন্দ বোসের বিরুদ্ধেই। সেই বিষয় নিয়ে রাজ্য-রাজভবনের সংঘাত তুঙ্গে পৌঁছয়। সেখানে কলকাতা পুলিশ অভিযোগকারিণীর পাশে দাঁড়ায়। এবার আরজি কর কাণ্ড নিয়ে বিনীত গোয়েলের অপসারণের দাবিকে রাজ্যপাল বোসের পুরনো অসূয়া মেটানোর চেষ্টার গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে। সংবাদ সংস্থা রাজভবন সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, রবিবার সন্ধেয় মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করে রাজ্যপাল জানিয়েছেন, তিনি চান মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের অপসারণ নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিন। কারণ জনগণ সেই দাবি জানাচ্ছে। দাবি সত্যিই অদ্ভুত! কোন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ, কোনও অপকর্মের প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র কিছু লোকের পছন্দ নয় বলে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হবে! এটা কী ধরনের প্রস্তাব? প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। কারণ এত দিন ধরে তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই। তারা একবারও বিনীত গোয়েলকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ পর্যন্ত করেনি। তাহলে কি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপরেই আস্থা নেই রাজ্যপালের? সুপ্রিম কোর্টে মামলা। সেখানেও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের নাম ওঠেনি। তাহলে কীসের ভিত্তিতে বিনীতের অপসারণের দাবি তুলছেন আনন্দ বোস!
কিছু দিন আগে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে সিপির পদত্যাগ চেয়ে লালবাজার অভিযান করেছিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। লালবাজারের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরে সিপির সঙ্গে তাঁরা দেখা করেই তাঁর পদত্যাগের দাবিতে স্মারকলিপি দেন আন্দোলনকারীরা। বিনীত জানান, তিনি মনে করেন না, কোনও ভুল করেছেন। উপরমহল থেকে নির্দেশ এলে তিনি পদত্যাগ করবেন। এদিন রাজ্যপাল সে বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীকে (Mamata Bandopadhyay)।














