সুপ্রিম নির্দেশের পরেই সোমবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন আপনাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে, রোগীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে এবার কাজে ফিরুন। কিন্তু সব নির্দেশ, অনুরোধ অগ্রাহ্য করে কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিল জুনিয়র ডাক্তাররা। আগামিকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিলেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় করুণাময়ী থেকে শুরু হবে স্বাস্থ্যভবন অভিযান।


প্রসঙ্গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আর জি কর মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফ থেকে রিপোর্ট পেশ করা হয় ডাক্তারদের কর্মবিরতির জেরে এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। সেই সঙ্গে প্রভাব পড়েছে প্রায় ৬ হাজার মানুষের উপর। আগের শুনানিতে ডাক্তারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরে দ্রুত কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। তারপরেও কলকাতা ও শহরতলির সরকারি হাসপাতালগুলিতে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি পালন করে যাচ্ছেন বলে চিকিৎসা পরিষেবা ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল রাজ্যের পক্ষ থেকে। সওয়াল জবাবের পর কর্মবিরতিতে থাকা জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে সময় বেঁধে দেন প্রধান বিচারপতি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্যে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে ডাক্তারদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
পাশাপাশি এদিন প্রধান বিচারপতি ডাক্তারদের কর্তব্য সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে পর্যবেক্ষণে জানান, “কোনও প্রতিবাদ জোর করে চলতে পারে না।” সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দেয়, সব সুবিধা সত্ত্বেও লাগাতার কর্মবিরতি চললে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সেই প্রসঙ্গে সব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়ার হয় রাজ্যকে।


যদিও সুপ্রিম নির্দেশের পরেও তাঁদের কর্মবিরতি চলবে বলে সোমবার রাতে জানিয়ে দেন জুনিয়র ডাক্তাররা। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে কর্মবিরতি। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের দাবি নিয়ে রাজ্য প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা দেখে তার পর আবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন অভিযযানের ডাকও দিয়েছে তারা। বেলা ১২ টায় করুণাময়ী থেকে শুরু হবে স্বাস্থ্যভবন অভিযান। এবার স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা ও স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগমের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা।

গত ৯ অগাস্ট আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কর্মবিরতির ডাক দেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। সুবিচারের দাবিতে টানা একমাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। যার জেরে বেহাল হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা। সিনিয়র ডাক্তাররা কোনওরকমে আউটডোর পরিষেবা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোগান্তির মুখে পড়েছেন রোগীরা। আগামিকাল বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের চিকিৎসকদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু সেই নির্দেশের পরও কাজে ফিরছেন না তাঁরা।

আরও পড়ুন- ওড়িশায় গিয়ে সমস্যায় বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকরা! উদ্বেগ প্রকাশ করে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর













