Monday, January 12, 2026

অমৃতস্নানে মৃত বাসন্তীর ডেথ সার্টিফিকেটও দেয়নি যোগী সরকার! ক্ষোভ উগরে পরিবারকে সাহায্যের আশ্বাস অরূপ

Date:

Share post:

অমৃতস্নানে ঘিরে পদপিষ্ট হয়ে মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এই বাংলার দুই প্রৌঢ়া। পশ্চিম মেদিনীরপুর ও বিজয়গড়ের বাসিন্দা তাঁরা। খবর পেয়েই কলকাতার বিজয়গড়ের বাসিন্দা বাসন্তী পোদ্দারের (Basanti Poddar) বাড়িতে যান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas)। আর সেখানেই তিনি শুনলেন, মহাকুম্ভের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। কুম্ভমেলায় চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন মৃতার পুত্র। তাঁর অভিযোগ, মায়ের ডেথ সার্টিফিকেটই দেয়নি উত্তরপ্রদেশের সরকার (Utterpradesh Government)। ফলে কলকাতায় এনে কীভাবে দেহ সৎকার হবে। তা নিয়ে চিন্তায় পরিবার। তবে, শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন অরূপ।

ছেলে, মেয়ে ও বোনের সঙ্গে মহাকুম্ভে অমৃতস্নানে গিয়েছিলেন বাসন্তী পোদ্দার। কিন্তু অভিশপ্ত রাতে অব্যবস্থা ও ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। সেখানেই শেষ নয়। মায়ের দেহ নিয়েও যোগী রাজ্যে চূড়ান্ত সমস্যায় পুত্র। তাঁর অভিযোগ, ডেথ সার্টিফিকেট দেয়নি উত্তরপ্রদেশের সরকার। মেলেনি দেহ হস্তান্তরেরও কোনও নথি। তাও দেহ নিয়ে কলকাতায় ফিরছে পরিবার। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন, তা পাওয়া যাবে কি না তা নিয়েও সংশয়ে পোদ্দার পরিবার। কারণ, যে সার্টিফিকেট তাঁদের দেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্ট কিছুই লেখা নেই।
আরও খবর: মোদি-যোগী সরকারের অপদার্থতায় মহাকুম্ভে মৃত্যুমিছিল, সুপ্রিম আদালতে দায়ের জনস্বার্থ মামলা

এই শোকস্তব্ধ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলার সরকার। বৃহস্পতিবার, দুপুরে বিজয়গড়ে বাসন্তী দেবীর বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মন্ত্রী অরূপ (Arup Biswas)। তাঁর কথায়, যাঁর কেউ নেই তাঁর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। যোগী সরকারের চরম অব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে অরূপ বলেন, “এটা ডেথ সার্টিফিকেটের নিয়ম নয়। এভাবে হয় না। কুম্ভ তো জাতীয় মেলা, কেন্দ্র কোটি কোটি টাকা দিয়েছে। তাও এমন হল। ওরা ব্যর্থ, ওরা ভক্তদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। এখানে তো সড়ক পথে যাওয়া যায়, গঙ্গাসাগর তো জলপথ পেরিয়ে যেতে হয়। দেখে শেখা উচিত।”

বাসন্তীদেবীর ছেলে জানান, মঙ্গলবার রাতে মৌনী অমাবস্যার অমৃত স্নানের জন্য যাচ্ছিলেন তাঁরা। আশেপাশে পুলিশের কেউ ছিল না। হঠাৎই হাজার দশেক লোক এক জায়গায় এসে পড়ে। তুমুল দৌড়াদৌড়ি-ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। সেই ধাক্কাতেই মাকে নিয়েই নীচে পড়ে যান তাঁরা। অভিযোগ, সাহায্য় করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। মাকে হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারেননি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় গলা বুজে আসে পুত্রের।

তবে, সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন অরূপ। দেহ এলে কোনও সমস্যা হলে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।

spot_img

Related articles

আইন রক্ষায় নিহত বাবা, তাঁরই ছেলে প্রতারণায় জেলে!

দু’দশক আগে এক বর্ষবরণের রাতে তিলোত্তমার বিবেক জাগিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। এক অপরিচিতা তরুণীর সম্মান বাঁচাতে মদ্যপ সহকর্মীদের সামনে...

IND vs NZ: নতুন বছরে বিরাটের ব্যাটিং বিক্রম, জয়ের মধ্যেও থাকল উদ্বেগের ছায়া

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচে ৪ উইকেটে জিতল ভারত। ২০২৫ সালেযেখানে শেষ করেছিলেন ২০২৬ সাল সেখান থেকেই শুরু...

সোমে মিলনমেলায় ডিজিটাল যোদ্ধাদের সঙ্গে বৈঠকে অভিষেক

বাংলা বহিরাগত জমিদারদের হাতে অপমানিত, লাঞ্ছিত। সেই বাংলাবিরোধীদের মিথ্যা ও অপপ্রচারের মোকাবিলায় তৃণমূল ময়দানে নামিয়েছে ডিজিটাল যোদ্ধাদের। ডিজিটাল...

অনুপ্রবেশকারী খুঁজবে AI! নির্বাচনে নতুন গ্যাঁড়াকল শিণ্ডে-ফড়নবিশ জোটের

ভোটের আগে ফের মাথা চাড়া দিচ্ছে মানুষের উপর নজরদারি আর হয়রানির রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নতুন অ্যাপ ব্যবহার...