বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Maitra)। তাঁর আবেদনকে মান্যতা দিল শীর্ষ আদালত। বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্কে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নোটিশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী বৃহস্পতিবার মামলার পরবর্তী শুনানি। চলতি বছর অক্টোবর নভেম্বর নাগাদ বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হবে। তার আগে ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন করার নির্দেশ জারি নির্বাচন কমিশনের। ইতিমধ্যেই ভোটারদের মধ্যে নির্দিষ্ট ফর্ম বিলি করা হয়েছে, যা পূরণ করে নথি-সহ জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট দফতরে। কমিশনের তরফে বলা হয়েছে নথি হিসাবে দেখাতে হবে নিজের এবং বাবা-মায়ের জন্মের শংসাপত্র। আধার কার্ড বা ভোটার কার্ডে হবে না। এখানেই আপত্তি তুলে বহুৎ কষ্ট অভিযোগ করেছিলেন এভাবে দেশের মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। অবিলম্বে ওই নির্দেশ বাতিলের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। এদিন শীর্ষ আদালতের তরফে বলা হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে, তাই মামলাটি গ্রহণযোগ্য।

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সোমবার সমাজমাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে মামলার কথা জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘বিহারের এসআরআই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গৃহীত হয়েছে। নোটিশ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানি। সত্যমেব জয়তে।’’নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, ২০০৩-এর ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের সমস্যা নেই। কিন্তু বাকিদের মধ্যে যাঁদের জন্ম ১৯৮৭ সালের আগে, তাঁদের জন্মের প্রমাণপত্র দিতে হবে। এই নির্দেশের বিরোধিতা করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইরকম নির্দেশ যাতে বাংলা বা অন্য কোনও রাজ্যের ক্ষেত্রে না দেওয়া হয়, সেই আবেদনও করা হয়। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলা হয়েছে। শনিবার মামলা করে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস’। অন্য কোনও রাজ্যে যাতে এই ধরণের নির্দেশ না দেওয়া হয়, সেই ব্যবস্থা করতেও আর্জি জানিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। মহুয়া আদালতে মামলার এই নথি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের এসআইআর-এর নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে এইমাত্র সুপ্রিম কোর্টে একটা মামলা করলাম। বাংলা-সহ অন্যান্য রাজ্যে যাতে এই পদক্ষেপ না করা হয়, তার জন্য স্থগিতাদেশও চেয়েছি।’’অবশেষে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন(SIR)এর বিরুদ্ধে করা মহুয়া মৈত্রর WRIT পিটিশন গ্রহণ করেছে আদালত। সোমবার নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে পোস্ট করে মহুয়া মৈত্র জানান, ”আজ মাননীয় সর্বোচ্চ আদালত ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন(SIR)এর বিরুদ্ধে করা আমার WRIT পিটিশন কে গ্রাহ্য করেছেন এবং ভারতীয় নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করেছে ।এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী বৃহস্পতিবার।”
সোমবার এই মামলার বিষয়টি আদালতে উঠলে কমিশনের নির্দেশ কার্যকরী করার সমস্যার কথা তুলে ধরেন মামলাকারীদের আইনজীবীরা। মহুয়া মৈত্রর দাবি ছিল ২০২৬ সালে বাংলায় নির্বাচন। কীভাবে বিজেপি-কে সাহায্য করে, বাংলার ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া যায়, এটাই নির্বাচন কমিশনের মূল উদ্দেশ্য। যে ১১টি প্রমাণপত্র চাওয়া হয়েছে, সেটাতে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড নেই। প্রমাণপত্রের মাধ্যমে জন্মের স্থান প্রমাণ করতে হবে। জন্মের শংসাপত্র ছাড়া আরও কোথাও জন্মের স্থানের উল্লেখ থাকে না। অন্যদিকে ১৯৮৭ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, তাঁদের মা-বাবার প্রমাণপত্রও দিতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোটাধিকার বাতিলের চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন মহুয়া। কমিশনের এই পদক্ষেপে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ তৃণমূল সাংসদ।তাঁর পক্ষে এই মামলা লড়বেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি এবং আইনজীবী সি ইউ সিং। আরজেডি সাংসদের হয়ে মামলা লড়বেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। মামলার পরবর্তী শুনানির আগে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দিতে পারবে মামলাকারী সব পক্ষ বলেও জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

–

–

–

–

–
–
–
–
–
–
–
–
–
–
–
–
