রাজ্যে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বাইরের ধুলিকণার দূষণ রুখতে উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। বন দফতরের সহযোগিতায় শুরু হয়েছে ‘সবুজ বায়ো-শিল্ড’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এক প্রাকৃতিক দূষণ প্রতিরোধক বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঝাড়গ্রামের আসানিবনি গ্রামে ৭ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রথম পর্যায়ে এই বায়ো-শিল্ড গড়া হয়েছে। বর্ষা শুরু হতেই ঝাড়গ্রাম ও পুরুলিয়া জেলায় জোরকদমে গাছ লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূম জেলাতেও এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। রাজ্য জুড়ে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সবুজ প্রাচীর গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আইআইটি দিল্লির এক সমীক্ষা বলছে, বাংলার বায়ুদূষণের ৫৩ শতাংশই আসে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো প্রতিবেশী রাজ্যগুলি থেকে। শীতকালে ইনডো-গ্যাংগেটিক সমভূমি থেকে ধুলিকণা বাংলায় প্রবেশ করে বায়ুর মান আরও খারাপ করে তোলে। কলকাতা তো বটেই, এমনকি যানবাহন বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানবিহীন হিলি বা বাঁকুড়ার মতো এলাকাতেও দূষণের মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রকল্পের সূচনা হলেও জমি না পাওয়ার কারণে তা শুরুতে সমস্যার মুখে পড়ে। তবে বন দফতরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সেই জট কাটতে শুরু করেছে। বন দফতরের অধীনস্থ জমি সীমান্ত এলাকায় সহজলভ্য হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন অনেকটাই সহজ হয়েছে।

পর্ষদের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই প্রকল্প স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও এনে দেবে। দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর ফলে এলাকার জৈব পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। শুধু বায়ুদূষণ রোধই নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে মাটির জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থানীয় জলবায়ুর উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশও সম্ভব হবে বলে আশা করছেন পরিবেশবিদেরা।

আরও পড়ুন – বাম আমলে GB থেকে নিয়োগ রাজন্যার বাবার, SACT শিক্ষকের দার্জিলিঙে বাংলো! পর্দা ফাঁস তৃণমূলের

_

_
_
_
_
_
_
_
_
