বাংলাকে জলে ডুবিয়ে মারার কেন্দ্রীয় চক্রান্তের দ্বিতীয় ভাগ। ডিভিসির বিভিন্ন জলাধার থেকে অনিয়ন্ত্রিত জল ছেড়ে একাধিক জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করার বিজেপি ব্লু প্রিন্ট ফাঁস হয়ে গিয়েছে। এবার বীরভূমের তিলপাড়া ব্যারেজে ভয়াবহ ফাটল রুখতে হাত গুটিয়ে বসে থেকে রাজ্যকে নতুন করে বিপদে ফেলার ছক করছে বিজেপি নিয়ন্ত্রণাধীন কেন্দ্রের সরকার। রাজ্য সরকার যখন জীবন ও পরিকাঠামো রক্ষায় জরুরি মেরামতির কাজ শুরু করেছে, তখন কানাকড়ির সাহায্য করতেও নারাজ তারা। শুক্রবার রাজ্যের সেচমন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া (Manas Bhuniya) টানা বৃষ্টিতে জলের চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়া এই ব্যারেজের পুনর্গঠন নিয়ে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন দিল্লির দিকে।

বিজেপি নেতাদের কটাক্ষ করে মানস (Manas Bhuniya) বলেন, “২০২৬-এ ক্ষমতায় আসার দিবাস্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। যদি সত্যিই বাংলার মানুষের পাশে থাকতে চান, তাহলে মিছিল করে প্রধানমন্ত্রী আর জল শক্তি মন্ত্রীর কাছে যান— বলুন, বাংলার টাকা দিন, বাংলার টাকা দিন!” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র ইচ্ছে করেই ১.৭৭ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখে রাজ্যের অর্থনীতিকে বিপন্ন করে তুলতে চাইছে।
১৯৫০-৫১ সালে নির্মিত তিলপাড়া ব্যারেজে ফাটল, বসে যাওয়া অংশ এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ জলপ্রবাহ এখন বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্র সহযোগিতা করুক বা না করুক, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ম্যাকিনটোশ বার্ন লিমিটেডকে জরুরি পুনর্গঠনের কাজ দেওয়া হয়েছে শনিবার থেকেই।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, শনিবার কেন্দ্রীয় জল কমিশনের ডিরেক্টরের সঙ্গে বৈঠক হবে এবং আইআইটি রুরকির বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জে আহমেদের সঙ্গে কথা বলে বাঁধ রক্ষায় যা যা করার তাই করা হবে।

বর্তমানে সুরক্ষার স্বার্থে ব্যারেজের উপর দিয়ে শুধু মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুল্যান্স চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মেরামতির কাজের টেন্ডার হয়েছে ২১ কোটি টাকায়— যা পুরোপুরি রাজ্য সরকার বহন করছে, কারণ কেন্দ্র বিশ্বব্যাঙ্ক-সহায়তাপ্রাপ্ত প্রকল্প মঞ্জুর করেনি, যেখানে ৭০ শতাংশ খরচ বহন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু জুনের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বড় অংশের কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডিভিসির মাইথন ও পাঞ্চেত বাঁধ থেকে জলছাড় নিয়েও আঙুল তোলেন সেচ মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, বহুদিনের পলি জমে জলাধারের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়াতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জল ছাড়তে হচ্ছে।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও কেন্দ্রকে কটাক্ষ করেন মন্ত্রী। রাজ্য নিজস্ব উদ্যোগে অর্থ বরাদ্দ করে প্রকল্পে অগ্রগতি ঘটালেও, বহু বছর আগে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র প্রকল্পটি কার্যত পরিত্যাগ করেছে বলে অভিযোগ তাঁর।

–

–
–
–
–
–
–
