Tuesday, May 12, 2026

বিক্ষোভের আগুনে পুড়ে মৃত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী, রক্তাক্ত শের বাহাদুর দেউবা

Date:

Share post:

বামপন্থী শাসনের বিরুদ্ধে সবরকম প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল নেপালের জেন জি। সেই বিক্ষোভ শেষপর্যন্ত এতটাই রক্তাক্ত হয় মঙ্গলবার দিনভর, যার জেরে মৃত্যু হল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঝালানাথ খালানের (Jhalanath Khanal) স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকরের (Rajyalaxmi Chitrakar)। অন্যদিকে একের পর এক মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির বাড়ি জ্বালানোর মধ্যেই নেপাল সেনা নিরাপদে উড়িয়ে নিয়ে অজানা স্থানে নিয়ে যায় প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে (K P Sarma Oli)। তবে নিজেদের বাড়ি থেকে পালাতে পারেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে রক্তাক্ত করে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পরে সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।

২০১১ সালে মাত্র কয়েকমাসের জন্য নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন ঝালানাথ খালান। তবে তিনি নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান ছিলেন দীর্ঘ পাঁচ বছর। বামপন্থী নেতা-মন্ত্রীদের উপর আক্রোশে ঝালানের বাড়িও ছাড় পায়নি। বিক্ষোভকারীরা তাঁর স্ত্রী রাজ্যলক্ষ্মী চিত্রকরকে (Rajyalaxmi Chitrakar) বাড়ির ভিতরে আটকে রেখেই আগুন লাগিয়ে দেয় বাড়িতে। পরে তাঁকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

কাঠমাণ্ডুতে হামলা চালানো হয় দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাড়িতেও। বিক্ষোভকারীরা বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী তথা দেশের বিদেশমন্ত্রী আরজু রানা দেউবাকে মারধর করতে শুরু করলে কোনওক্রমে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। পাশের মাঠে রক্তাক্ত অবস্থায় বসেছিলেন শের বাহাদুর। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়। পরে সেনাবাহিনী তাঁদের উদ্ধার করে।

এরই মধ্যে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পোড়েল। বিক্ষোভকারীরা আগুন লাগিয়ে দেয় নেপালের সর্ববৃহৎ সংবাদপত্র কাঠমাণ্ডু পোস্ট-এর দফতরে। মঙ্গলবার বিকালে কান্তিপুরে অবস্থিত বিরাট সেই অট্টালিকা দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে। দিনভর অরাজকতা ঠেকাতে প্রবল সংঘর্ষ করতে হয় নেপালের সেনাকে। কার্যত একাধিক বামপন্থী নেতা ও মন্ত্রীদের গণপ্রহারে মৃত্যু ঠেকাতে বারবার ঢাল হিসাবে রুখে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: বঞ্চনার জবাব: উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নেই তিন দল, বিরোধী ভোট ১০০ শতাংশ

মঙ্গলবারের অরাজকতার মধ্যে নাখ্খু জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রী রবি লমিছানেকে। রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির প্রেসিডেন্টকে মুক্তি দেওয়ার পিছনে যুক্তি দেওয়া হয়, বর্তমান অরাজক পরিস্থিতি শান্ত করতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

Related articles

বেআইনি নির্মাণকারীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ: তিলজলা ঘুরে জানালেন মন্ত্রী

বেআইনি নির্মাণ নিয়ে প্রথম থেকেই যে রাজ্যের নব নিযুক্ত বিজেপি সরকার কাজ করবে, তা প্রথম দিন দফতরে বসেই...

সাংসদ – পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে কালীঘাটে জরুরি বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী

এবার ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে লড়াই করা প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক ডাকলেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একই সঙ্গে দলের...

নিরাপত্তার ‘অজুহাত’: নবান্নে এবার নিয়ন্ত্রিত সাংবাদিকদের গতি!

সংবাদ সংগ্রহে স্বৈরাচারী বাধা বিজেপির নবনির্বাচিত রাজ্য প্রশাসনের। একেবারে দিল্লি মডেলে এবার বাংলাতে, নবান্নে সাংবাদিকদের (journalists) গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত...

পাথর খাদান থেকে সাফল্যের শিখরে আসানসোলের ২০ ‘লড়াকু’ পরীক্ষার্থী

অন্ধকার খুপরি ঘর, নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসার, আর দিনরাত পাথর ভাঙার শব্দ— এই ছিল তাদের চেনা জগৎ।...