আদিবাসী সম্প্রদায়ের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে বাংলার মা-মাটি-মানুষের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্যোগে প্রতিনিয়ত তাঁদের জীবনযাত্রা এগিয়ে চলেছে। সামজিক নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পরিকাঠামো ও ঐতিহ্যরক্ষা, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (self help group) মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছুই করেছে রাজ্যের সরকার।
সরকারের এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এক্স বার্তায় জানিয়েছে, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির ১.৮৯ লক্ষ উপজাতি ছাত্রছা্ত্রীকে শিক্ষাশ্রী বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫.১৮ কোটির বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। তিনটি সিধো-কানহো মেমোরিয়াল সাঁওতালি স্কুল স্থাপন হয়েছে ডেবরা, কেশপুর ও গাজোলে। সাঁওতালি (Santhali) সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য মাতৃভাষায় শিক্ষা প্রচারের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য।

সামাজিক নিরাপত্তা : আদিবাসী (Adibashi) সম্প্রদায়ের মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানে জয়জোহার পেনশন চালু করা হয়েছে। ২.৯৩ লক্ষ তফসিলি উপজাতির প্রবীণদের জন্য মাসিক এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হয় এই প্রকল্পে। শুধু ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেই ২৮৬.০৪ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এই পেনশন প্রকল্পে। এভাবেই বয়স্কদের সম্মান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে এই সরকার।

পরিকাঠামো ও ঐতিহ্য : রাজ্য সরকার আদিবাসীদের এতিহ্যরক্ষায় ও বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়নে ৬২.২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এলাকায় সড়ক, সেতু, হস্টেল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, পানীয় জল, সোলার স্ট্রিট লাইট, কমিউনিটি হল ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

জীবিকা ও স্বনির্ভর গোষ্ঠী : আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা নির্বাহে স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরির উপর বিশেষ জোর দিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে ১০ হাজার আদিবাসী স্বনির্ভর গোষ্ঠী এলএএমপিএস-এর অধীনে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পেয়েছে। বাড়ি, কমিউনিটি হল, হস্টেল, পানীয় জল, সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য ১৭.৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মহিলাদের নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায়।

আরও পড়ুন: সোনালিরা ভারতীয়ই, প্রমাণিত বাংলাদেশ আদালতে: ১০দিনেও ফেরাতে ব্যর্থ ভারত

শ্রমিক-নিরাপত্তা : শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে আমাদের সরকার। কেন্দুপাতা সংগ্রহকারীদের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ৩৫,৩৯৪ তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ভূক্ত শ্রমিক অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। তাঁদের বার্ধক্য ভাতা, দুর্ঘটনা বিমা, মাতৃত্বকালীন চিকিৎসা সহায়তার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে মোট ২০৭ জন উপভোক্তা ১.৫৩ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।

–
–
–
