রাজ্যে আরও অর্গ্যান ব্যাঙ্ক তৈরি হোক। চান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banarjee)। মঙ্গলবার, ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিক প্রকল্পের উদ্বোধনে তিনি বলেন, রাজ্যে হার্ট, কিডনিরও ব্যাঙ্ক করার পরিকল্পনা রয়েছে মমতার। রাজ্যে এবার অঙ্গ দান ও প্রতিস্থাপনের নতুন দিগন্ত খুলে যেতে চলেছে। লিভার (Liver), কিডনি (Kidney), হার্ট (Heart)— একাধিক অঙ্গের জন্য ‘ব্যাঙ্ক’ তৈরির পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, SSKM হাসপাতালে তৈরি হচ্ছে রাজ্যের প্রথম ‘অর্গ্যান ব্যাঙ্ক’। পাশাপাশি লিভার ও কিডনি ব্যাঙ্কও গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের প্ল্যান আছে— একটা লিভার ব্যাঙ্ক হচ্ছে, একটা কিডনি আর হার্ট ব্যাঙ্ক তৈরিরও চিন্তাভাবনা চলছে। এসএসকেএম অর্গ্যান ব্যাঙ্ক করছে। ভবিষ্যতে আমরা চাই, যাদের কোনও অঙ্গ বাদ দিতে হচ্ছে, সেই অঙ্গ যেন অন্য কারও শরীরে কাজে লাগতে পারে।” উদাহরণ দিয়ে বলেন, “ধরুন কারও একটা পা কেটে বাদ দিতে হল, তাহলে সেই অঙ্গ অন্যের কাজে লাগবে। যার একটা পা, সে যেন দু’পায়ে হাঁটতে পারে। যার একটা হাত, সে যেন দু’হাতে কাজ করতে পারে— এই ভাবনাই আমাদের। নানারকম আইডিয়া ও পরিকল্পনা চলছে, এগুলো বাস্তবায়িত করতে সময় ও টাকার প্রয়োজন।”

এদিন উদ্বোধন হল ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিক প্রকল্পের। স্বাস্থ্য ভবনে এসে এই প্রকল্প উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(CM Mamata Banarjee)। বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা- সমস্ত জায়গায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। চালু হল একসঙ্গে ১১০টি সম্পূর্ণ সজ্জিত মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট। একইসঙ্গে এদিন হার্টব্যাঙ্কের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাজ্যে অঙ্গ প্রতিস্থাপন পরিষেবায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বলে মনে করছে চিকিৎসক মহল। তাঁদের মতে, রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এসএসকেএম হাসপাতালেই এই অর্গ্যান ব্যাঙ্ক তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে মেডিক্যাল কলেজ, এনআরএস ও অন্যান্য সরকারি হাসপাতালেও এই পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অঙ্গ সংরক্ষণ ও প্রতিস্থাপনের এই ব্যবস্থা চালু হলে জরুরি পরিস্থিতিতে বহু রোগীকে দ্রুত জীবনরক্ষা করা সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই, অঙ্গ দানকে সমাজে আরও উৎসাহিত করা হোক। এই ব্যাঙ্কগুলো গড়ে উঠলে অনেকের জীবনে নতুন আশার আলো আসবে।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দলের রাজ্যসভার সাংসদদের উন্নয়নের তহবিল বাবদ পাওয়া ৮৪ কোটি টাকা খরচ করে এরকম ২১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট রেডি হয়েছে। এদিন ১১০টির উদ্বোধন হল। আগেও আমরা অ্যাম্বুল্যান্স দিয়েছি, এবার আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,”এটা সাধারণ মোবাইল ইউনিট নয়- এটা ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য ক্লিনিক। ইসিজি, ব্লাড টেস্ট, আল্ট্রাসাউন্ড-সহ নানা পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। শিশু ও গর্ভবতী মায়েরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। সিরিয়াস রোগীকেও এখানে আনা যাবে।”

–

–

–


