Thursday, February 19, 2026

স্বায়ত্তশাসন বিপন্নের আশঙ্কা! ISI বিল বাতিলের দাবিতে সরব ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’

Date:

Share post:

নয়া আইএসআই বিল বাতিলের দাবিতে নাগরিক সভা দেশ বাঁচাও গণমঞ্চের। সভায় শিক্ষাবিদ, গবেষক, প্রাক্তন ও বর্তমান অধ্যাপক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন স্তরের নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় আইএসআই-এর স্বাতন্ত্র্য, গণতান্ত্রিক পরিসর এবং গবেষণার স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা উঠে আসে। বক্তাদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত নয়া বিল কার্যকর হলে ১৯৫৯ সালের আইএসআই আইন বাতিল হয়ে যাবে এবং তার পরিবর্তে এমন এক কাঠামো চালু হবে, যা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের পরিপন্থী বলে মনে করা হচ্ছে।

সভায় বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে, আইএসআই শুধুমাত্র একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃত গবেষণার কেন্দ্র। বক্তাদের মতে, বোর্ড ও পরিচালন ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরোপ হলে গবেষণা, পাঠক্রম এবং ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষাকে একরকম সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার আদলে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, আইএসআই-এর কলকাতা কেন্দ্রকে দুর্বল করে অন্যান্য রাজ্যের কেন্দ্রগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে নীতি দেখা যাচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ঐতিহাসিকভাবে আইএসআই-এর বিকাশে বাংলার অবদান স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি তোলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্রীয়করণের নামে সংকুচিত না করে তার বহুমাত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হোক।

এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন পূর্ণেন্দু বসু, অধ্যাপক ড. রজত কুমার দে, অধ্যাপক অনুপম বসু, অধ্যাপক অরিজিৎ বিষ্ণু, অধ্যাপক কুন্তল ঘোষ, অধ্যাপক শশীভূষণ শ্রীবাস্তব, অধ্যাপক আয়নেন্দ্র নাথ বসু, অধ্যাপক ড. দেবরুপ চক্রবর্তী, অধ্যাপক ড. অরিজিৎ চক্রবর্তী, রন্তিদেব সেনগুপ্ত, পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর নাসরিন, অধ্যাপক শামীম আহমেদ, অধ্যাপক নজমুল হক, ড. ভাস্কর চক্রবর্তী, সুশান রায়, সুমন ভট্টাচার্য, বার্ণালি মুখোপাধ্যায় এবং অমিত কালি।

সভা থেকে সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়, নয়া আইএসআই বিল অবিলম্বে প্রত্যাহার করে শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা হোক। বক্তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক পরিসরে মতভেদ ও স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমেই দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন – মারাদোনার সফরেও হয়েছিল বিশৃঙ্খলা, বাম শিবিরকে অতীত মনে করালেন কুণাল

_

 

_

 

_

 

_

 

_

spot_img

Related articles

‘শিল্পান্ন’-এ মুখ্যমন্ত্রী, হস্ত-কুটির শিল্পের প্রসারে উৎসাহ দিলেন কারিগরদের

বাংলার প্রতিভাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার প্রয়াস তাঁর সর্বদা। তিনি চান বাংলার হস্ত ও কুটিরশিল্পের মাধ্যমে প্রতিভার বিকাশ...

ভোটার তালিকা সংশোধনে কারচুপি! অভিযোগ জানিয়ে কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপি এবং নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বুধবার নির্বাচন কমিশনের...

T20 WC: জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের, সুপার আটের আগে চিন্তায় রাখল ওপেনিং

টি-টোয়েন্টি(T20 World Cup) বিশ্বকাপে জয়ের ধারা অব্যাহত ভারতের(India) ।গ্রুপ পর্বে শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারাল টিম ইন্ডিয়া।...

রাজ্যের মুকুটে নয়া পালক! সেন্টার অফ রিসার্চ এক্সেলেন্স স্বীকৃতি পেল পিজি

রাজ্যের মুকুটে নয়া পালক। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের একমাত্র চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘সেন্টার অফ রিসার্চ এক্সেলেন্স’ (কোর) স্বীকৃতি...