Tuesday, January 13, 2026

SIR আতঙ্ক কাড়ল তিন প্রাণ! বাদুড়িয়া থেকে কালিয়াগঞ্জ, জেলায় জেলায় মৃত্যুমিছিল

Date:

Share post:

শিয়রে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। আর সেই সংশোধনীর গেরোয় পড়ে ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় কি শেষ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক প্রাণ? উত্তর ২৪ পরগনা, উত্তর দিনাজপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর— সোমবার রাজ্যের তিন প্রান্ত থেকে আসা তিনটি মৃত্যুর খবর ঘিরে এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে। মৃতদের পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকা এবং শুনানিতে প্রশাসনিক আশ্বাসের অভাবই ডেকে এনেছে এই মর্মান্তিক পরিণতি।

বাদুড়িয়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অনিতা বিশ্বাস (৭৫) গত কয়েকদিন ধরে হিয়ারিং বা শুনানির নোটিশ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ১৯৯৫ সালের তালিকায় নাম থাকলেও ২০০২-এর নথিতে তাঁর নাম ছিল না। গত ৫ জানুয়ারি নথিপত্র জমা দিয়েও আশ্বস্ত হতে পারেননি বৃদ্ধা। পরিবারের দাবি, সেই মানসিক চাপ থেকেই ৭ জানুয়ারি ব্রেন স্ট্রোক হয় তাঁর। বসিরহাট হাসপাতালে লড়াই চালিয়ে গত রাতে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। খবর পেয়েই পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি বুরাহানুল মুকাদ্দিম শাহনাওয়াজ সরদার ও স্থানীয় নেতৃত্ব।

একই ছবি উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ধনকৈল্য হাটে। সোমবার দুপুরে হাটে বেরিয়ে আচমকাই লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় পেশায় দিনমজুর লক্ষ্মীকান্ত রায়ের (৫০)। পরিবারের দাবি, আগামী ১৯ জানুয়ারি বিডিও অফিসে শুনানিতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকায় ভয়ে কয়েকদিন ধরে কাজও বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় তৃণমূল নেতা নিতাই বৈশ্য এই মৃত্যুর জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন।এলাকার বিডিও বিদ্যুৎবরণ বিশ্বাস জানান, লোকটির হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছেন, তবে গোটা এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে।

পিছিয়ে নেই পূর্ব মেদিনীপুরও। কোলাঘাটের বরনান গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় সরকার (৭৩) গত ৪ জানুয়ারি বিডিও অফিসে শুনানির জন্য গিয়েছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ১৯৭১ সালের দলিল দেখালেও আধিকারিকদের কথায় ভরসা পাননি তিনি। সেই থেকে বুকে ব্যথা ও মানসিক অবসাদ শুরু হয় তাঁর। রবিবার রাতে তমলুক মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করার পর আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

রাজ্য জুড়ে এসআইআর ঘিরে এই ‘আতঙ্ক’ এখন রাজনৈতিক চাপানউতোরের কেন্দ্রবিন্দুতে। শাসক দল তৃণমূলের দাবি, ২০০২-এর তালিকার দোহাই দিয়ে সাধারণ মানুষকে অহেতুক হেনস্থা করছে কমিশন। পাল্টা বিজেপির বক্তব্য, সরকারি প্রক্রিয়ার সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই, মানুষের ভয় ভাঙানোর বদলে তৃণমূল উল্টে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কিন্তু রাজনীতির এই দড়ি টানাটানির মাঝে বাদুড়িয়া থেকে কালিয়াগঞ্জ— কান্নার সুরটা সব জায়গাতেই এক। নথির গোলকধাঁধায় ঘুরপাক খেতে খেতে সাধারণ মানুষের প্রাণ যাওয়া কি তবে দস্তুর হয়ে দাঁড়াল? উত্তর খুঁজছে আমজনতা।

আরও পড়ুন- জমজমাট ভদ্রেশ্বর গোল্ড কাপ ফাইনাল, বর্ধমান মাতালেন বাইচুং-ব্যারেটো

_

_

_

_

_

_

spot_img

Related articles

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে বিচারপতি সুজয় পাল 

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিচারপতি সুজয় পাল। এতদিন তিনি ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির...

T20 WC: ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে ভিত্তিহীন প্রচার, বাংলাদেশের দাবি খারিজ করল আইসিসি

টি২০ বিশ্বকাপ (T20 World Cup) যত এগিয়ে আসছে ততই  বিতর্ক বাড়ছে  বাংলাদেশকে (Bangladesh) নিয়ে। সোমবার সারা দিন সরগরম...

নৃতাল ছন্দ ডান্স সেন্টার: বেলঘরিয়ায় উৎসব! নৃত্যের ছন্দে তিন দশকের পথচলা

জীবনের প্রতিটি বাঁকে যেমন ছন্দ লুকিয়ে থাকে, তেমনই নাচ-গান-কবিতা-নাটকের পথে সেই ছন্দকে আঁকড়ে ধরে তিন দশক পার করল...

কবে আবার Gym look পোস্ট? দিন জানালেন অভিষেক

ছিপছিপে চেহারা। অসম্ভব ফিটনেস। একটানা গাড়ির উপর দাঁড়িয়ে করতে পারেন র‍্যালি। তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সব অর্থেই...