বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া (এসআইআর) নিয়ে নির্বাচন কমিশন যতই ‘নিখুঁত পরিকল্পনা’র কথা বলুক, রাজ্যের মাটিতে সেই ছবিটা যে একেবারেই ভিন্ন—তা উঠে আসছে কমিশনের নিজের নথিতেই। কমিশনের ‘নোটিশ ও হিয়ারিং রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে এখনও লক্ষ লক্ষ ভোটারের শুনানি বাকি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়েই বাড়ছে অনিশ্চয়তা।

নথি বলছে, গোটা রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষেরও বেশি নোটিশ তৈরি হয়েছে। কিন্তু তার অর্ধেকেরও কম নোটিশ ভোটারদের হাতে পৌঁছেছে। প্রায় ৩৩ লক্ষ নোটিশ এখনও ডেলিভারির অপেক্ষায়। ফলে বিপুল সংখ্যক ভোটার জানতেই পারেননি তাঁদের নাম নিয়ে কোনও আপত্তি উঠেছে কি না, বা তাঁদের শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়েছে কি না।শুনানির ক্ষেত্রেও চিত্র আরও উদ্বেগজনক। এক কোটির বেশি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার লক্ষ্য স্থির করা হলেও এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯ লক্ষের কিছু বেশি শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ কাজের সিংহভাগ এখনও বাকি। জেলা-ভিত্তিক হিসেবেও পেন্ডেন্সির বোঝা স্পষ্ট। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ার মতো বড় জেলাগুলিতে নোটিশ ডেলিভারি এবং শুনানি—দু’দিকেই বড় ফাঁক রয়ে গিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কমিশন অতিরিক্ত মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ এবং শুনানি কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এত দেরিতে লোকবল বাড়িয়েও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শুনানি শেষ করা কার্যত অসম্ভব। কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা। অথচ এখনও অর্ধেকেরও বেশি শুনানি বাকি থাকায়, প্রকৃত শুনানি ছাড়াই বহু ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই। সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এসআইআর কি আদৌ একটি সংশোধনী প্রক্রিয়া, না কি সময়ের চাপে নাম বাদ দেওয়ার এক তড়িঘড়ি অভিযানে পরিণত হচ্ছে? কমিশনের নিজের রিপোর্টই সেই সন্দেহকে আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ।
আরও পড়ুন- ফোর্ট উইলিয়ামে এক কমান্ড্যান্ট SIR-এর কাজ করছেন! বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

_

_

_

_

_

_
_


