বাংলা বললে বাঙালিদের উপর অত্যাচার হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যে। বাংলায় সেই বিজেপিই মেলা করে বাঙালি সংস্কৃতির প্রচার করার দাবি জানাচ্ছে। সর্বভারতীয় সভাপতি (National president) নীতীন নবীনকে প্রথমবার বাংলায় অভ্যর্থনা জানাতে মেলার আয়োজন করে বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছে বঙ্গ বিজেপি (BJP West Bengal)। আর সেই মেলা থেকে একের পর এক বাঙালি, যাঁদের জন্য বাঙালি গর্ব অনুভব করে, তাঁদের নাম করে বঙ্গপ্রেমী প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চালালেন সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীন (Nitin Nabin)। সেই সঙ্গে যে বিজেপির নেতারা বাংলার প্রশাসনের মেলা আয়োজনের সমালোচনা করেন, সেই কমল মেলা করে বাংলার সংস্কৃতির প্রচারের নির্দেশ দিলেন নবীন।

কলকাতা ছেড়ে দুর্গাপুরে কমল মেলা পরিদর্শন করে সর্বভারতীয় সভাপতি হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর প্রথম রাজ্য সফরে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন নীতীন নবীন। সেখান থেকে দলীয় কর্মীদের প্রতি সর্বভারতীয় সভাপতির একটিই বার্তা – ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের জন্য বিকশিত বাংলা গড়ে তুলতে হবে।

বাকি পুরো কথাই তিনি বললেন বাঙালি মনীষী থেকে খ্যাতনামা ব্যক্তিত্বদের নিয়ে। কখনও বললেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে গড়ে ওঠা শান্তিনিকেতনের আশ্রম বিদ্যালয়ের কথা, কখনও নন্দলাল বসুর চিত্রশিল্পের কথা বলতে গিয়ে সংবিধানে তাঁর আঁকার উল্লেখ করলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এলো বঙ্কিমচন্দ্রে কথা। আবার নজরুল ইসলামের নামও উল্লেখ করলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে স্বামী বিবেকানন্দ ও রামকৃষ্ণও স্থান পেলেন।

তবে এই সব নামই এর আগে মোদি-শাহরা নিজেদের বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। ফলে এই নামগুলি উল্লেখ করে বাঙালি হৃদয় জয়ের চেষ্টা নতুন নয়। বিজেপির যুব সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসাবে উঠে আসা নীতীন নবীন সেখানেই নতুন কিছু পালন যোগ করলেন। তাঁর বক্তব্যে জায়গা পেলেন সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray) ও উত্তম কুমার (Uttam Kumar)। তবে চিরকুট দেখে দুটি নাম উল্লেখ করা ছাড়া তাঁদের কোনও কীর্তি সম্পর্কে একটি বেশি শব্দ উচ্চারণে ব্যর্থ নীতীন (Nitin Nabin)। ঠিক যেমন নজরুলের নাম বললেও তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে কিছুই বলতে পারলেন না বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি।

আরও পড়ুন : SIR নিয়ে উত্তাল হবে সংসদের বাজেট অধিবেশন: সর্বদল বৈঠকে ইঙ্গিত তৃণমূলের

দুর্গাপুরে বঙ্গ বিজেপির আয়োজনে চলা কমল মেলার (Kamal Mela) ভূয়সী প্রশংসা করেন সর্বভারতীয় সভাপতি। তিনি দাবি করেন, এই ধরনের মেলার মধ্যে দিয়েই বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরা সম্ভব। অথচ তাঁর অনুগামী এই বঙ্গ বিজেপির নেতারাই দাবি করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মেলার আয়োজনে উৎসাহ দিয়ে বাংলায় অর্থনীতিকে ধ্বংস করছেন। এবার সেই ধরনের মেলাকেই বাংলার সংস্কৃতির প্রসারের জন্য আরও বেশি করে আয়োজনের বার্তা দিলেন সর্বভারতীয় সভাপতি।

–

–

–

–


