গায়ের জামা থেকে ঝুলছে একাধিক পরিচয়পত্র ও নথিপত্র, আর মাথায় একটি ভারী লোহার ট্রাঙ্ক। বৃহস্পতিবার এমনই এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী হল ঘাটাল বিডিও অফিস (Ghatal BDO Office)। ভোটার তালিকায় নামের সামান্য বিভ্রাটের কারণে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধ শেখ জাফর আলিকে ডাকা হয়েছিল এসআইআর (SIR) ‘হেয়ারিং’ বা শুনানিতে। বারবার হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং নিজের নাগরিকত্বের সব প্রমাণ একবারে পেশ করতে নিজের যাবতীয় পৈতৃক দলিল নথিপত্র ট্রাঙ্কে ভরে সশরীরে বিডিও অফিসে হাজির হন তিনি।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল ব্লকের অজবনগর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮৭ নম্বর বুথের বাসিন্দা শেখ জাফর আলি। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নথিভুক্ত রয়েছে ‘শেখ জাফর আলী শেখ’ হিসেবে। নামের শুরুতে এবং শেষে ‘শেখ’ পদবি থাকায় ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির কারণ দেখিয়ে তাঁকে এসআইআর (SIR) শুনানিতে তলব করা হয়।

লেখাপড়া না জানা এই বৃদ্ধের কাছে নির্বাচন কমিশনের এই তলব এক চরম আতঙ্কের নাম। বারবার কাগজপত্রের খোঁজে ছোটাছুটি না করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়ির সব নথি একবারে নিয়ে আসার। জাফর আলির কথায়, “আমি তো লেখাপড়া জানি না, তাই পরিবারের সব দলিল এই ট্রাঙ্কে ভরে নিয়ে এসেছি। অফিসারদের যা দেখার এখান থেকেই দেখে নেবেন।”

বৃদ্ধের এই নীরব ও করুণ প্রতিবাদের ছবি যখন বিডিও অফিসের (Ghatal BDO Office) বারান্দায় ঘোরাফেরা করছে, তখন কোনও আধিকারিক বা বিএলও (BLO) এই বিষয়ে মুখ খোলেননি। উল্টে এক পুলিশ কর্মী এসে ওই বৃদ্ধকে ট্রাঙ্ক নিয়ে অফিসের বাইরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

এই ঘটনা ফের একবার বুঝিয়ে দিল, ভোটার তালিকা সংশোধন বা সরকারি প্রক্রিয়ার জালে পড়ে সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে বয়স্কদের কতটা চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

–

–

–

–

–


