রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বিরোধী দলনেতা। বুধবার, সাংবাদিক বৈঠক থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সিপিআইএম-এল (লিবারেশন)-এর সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (Dipankar Bhattacharya)। একই সঙ্গে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন তিনি। রাজ্যের শাসকদলের সুরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দীপঙ্কর।

বাম নেতা হয়েও রাজ্যের সিপিএম (CPIM)-এর সঙ্গে বরাবরই দূরত্ব বজায় রয়েছে দীপঙ্করের। বরং, অনেক ক্ষেত্রে বাংলার রাজ্য সরকারের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এদিন, এসআইআর নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের (Mamata Banerjee) প্রশংসা করেন সিপিআইএম-এল (লিবারেশন) (CPIM-L Liberation)-এর সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, এসআইআর-এর নামে কাদের নাম ঢোকানো হচ্ছে, আর কাদের নাম বাদ যাচ্ছে- সেটা দেখার বিষয়। দীপঙ্করের কথায়, “আমরা এটা নিয়ে আন্দোলন করছি। বাংলাতেও আন্দোলন হচ্ছে। শাসকদল তীব্র বিরোধিতা করছে। আজ বাংলা মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নিজে সওয়াল করেছেন। এটা ভালো।“

এই প্রসঙ্গেই দীপঙ্কর বলেন, “SIR-এর মাধ্যমে যে তালিকা তৈরি হচ্ছে, সেখানে কত অস্বচ্ছতা থাকবে, কত মানুষের ভোটাধিকার চলে যাবে সেটাই প্রশ্ন। এই বারের ভোটে এসআইআর ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ, দু’টোই চিন্তার।“ তিনি বলেন, বাংলায় সাম্প্রদায়িক পরিশবেশন তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। বাংলাদেশের উদাহরণ আসছে। সেটা সেদেশের বিষয়। সেখানেও যেন সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত না হন। কিন্তু তার নাম করে পশ্চিমবঙ্গে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী বাঙালি মুসলমানদের উদ্দেশে ঘৃণাভাষণ দিচ্ছেন। তাঁদের মেরে তাড়ানোর কথা বলছেন। সেই সুরেই কথা বলছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু বাংলায় সাম্প্রদিক উস্কানি দিচ্ছেন। এই সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ বাংলায় অত্যন্ত চিন্তার। বাংলা দখলের জন্য মরিয়া চেষ্টা বিজেপিই এই বিষ ছড়াচ্ছে- অভিযোগ সিপিআইএম-এল (লিবারেশন)-এর(CPIM-L Liberation) সাধারণ সম্পাদকের।

এর পরেই বৃহত্তর বাম ঐক্যের ডাক দেন দীপঙ্কর। বলেন, “সিপিএম-সহ অন্য বাম দলের সঙ্গে অনেক সময় আন্দোলনের প্রশ্নে আমরা এক সঙ্গে চলি। নির্বাচনটাও বড় আন্দোলন। সেখানেও বামপন্থীরা যাতে বৃহত্তর ভাবে এক সঙ্গে লড়তে পারে, সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।”

–

–

–

–

–

–


