পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক স্থায়িত্ব ও সুষ্ঠু পরিষেবা নিশ্চিত করতে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে শীর্ষ পদাধিকারীদের অপসারণ সংক্রান্ত নিয়মে বদল আনল রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল, ২০২৬ শনিবার বিধানসভায় গৃহীত হয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, কোনও পঞ্চায়েত (Panchayet) প্রতিষ্ঠান গঠনের অন্তত তিনবছর না হলে আর অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। আগে এই সময়টা এক বছর ছিল। ২০১৫-তে বাড়িয়ে আড়াই বছর করা হয়, এখন সেটা বাড়িয়ে তিন বছর করা হল।

নতুন আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের প্রধান পদাধিকারীদের অপসারণ সংক্রান্ত বৈঠক নির্বাচনের পর প্রথম তিনবছরের মধ্যে ডাকা যাবে না। আগে এই সময়সীমা ছিল আড়াই বছর। ফলে প্রধান, উপপ্রধান, সভাপতি, সহসভাপতি, সভাধিপতি ও সহসভাধিপতিদের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার ক্ষেত্রে এখন তিন বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা কার্যকর হবে।

পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার (Pradip Majumder) বলেন, উন্নয়নমূলক প্রকল্পের স্থায়ী রূপায়নের জন্য অন্তত তিন বছরের সময় প্রয়োজন। সেই কারণেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণের উপর সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে। ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পৃথক সেল গড়ে প্রায় সাড়ে ৭৪ হাজার পঞ্চায়েত (Panchayet) সদস্য-সদস্যাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এত বড় সংখ্যক প্রতিনিধিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া সময়সাপেক্ষ ও জটিল কাজ।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্প বাস্তবায়নে পঞ্চায়েত স্তরে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি হয়ে উঠেছে। সেই লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, অর্থ কমিশনের টাকা সরাসরি পঞ্চায়েতের কাছে পৌঁছায় এবং সেই অর্থ অন্যত্র খরচ করার সুযোগ নেই। ফলে উন্নয়নমূলক কাজে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থায়িত্ব জরুরি।
আরও খবর: বহু প্রতীক্ষিত হাওড়া পুরসভার নির্বাচনের পথ প্রশস্ত, বিধানসভায় গৃহীত ওয়ার্ড বৃদ্ধির সংশোধনী বিল

বিলটি নিয়ে আলোচনা শেষে ধ্বনি ভোটে তা গৃহীত হয় বিধানসভায়। নতুন এই আইনি সংশোধনের ফলে পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনিক স্থায়িত্ব বাড়বে বলেই মনে করছে রাজ্য সরকার।

–

–

–

–

–

