বিছানায় পড়ে থাকা পাঁচ ফুটের সাদা সাপের খোলস- সঙ্গে চুড়ি আর আংটি। দেখে শিউরে উঠেছিল উত্তরপ্রদেশের (Uttarpradesh) অরাইয়া জেলার (Auraiya) সিঙ্গনপুর গ্রাম। ২৪ বছরের রিনাকে ঘরে না পেয়ে রটে যায়— বাড়ির মেয়ে নাকি আসলে এক ‘ইচ্ছাধারী নাগিন’, খোলস ছেড়ে তিনি পালিয়েছেন! কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার। পুলিশ তড়িঘড়ি তদন্তে নামতেই বেরিয়ে এল আসল ঘটনা। অলৌকিক ঘটনা নয়, বিয়ে এড়াতে প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর এক নিখুঁত চিত্রনাট্য।

সোমবার সকালে রিনার ঘরে ঢুকতেই অবাক হয়ে যান বাড়ির লোকের। অগোছালো ঘরে রিনা নেই কিন্তু বিছানায় পড়ে আছে বিশালাকার এক সাপের খোলস (Snake skin)। কুসংস্কার আর মেয়ের নিখোঁজ হওয়া মিলেমিশে একাকার হয়ে তৈরি হয় ‘নাগিন’ আতঙ্ক। প্রতিবেশীরাও ভিড় জমান ‘ইচ্ছাধারী নাগিনের’ কীর্তি দেখতে। পুলিশ এসে যখন তল্লাশি চালায়, বাড়ির লোক জোর গলায় দাবি করেন, রিনা আসলে সাপ হয়েই চলে গিয়েছে।

রাকেশ বাল্মীকির ছোট মেয়ে রিনা ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। সম্প্রতি বাবা তাঁর বিয়ে ঠিক করেছিলেন, যা একদমই না-পসন্দ ছিল রিনার। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে রিনার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। বিয়ে ঠিক হওয়ার পরেই দুজনে মিলে এই পালানোর পরিকল্পনা করেন।

মানুষকে বিভ্রান্ত করতে রিনা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিছুদিন আগে মন্দির থেকে একটি সাপের মূর্তি কিনে আনেন এবং বাড়িতে বলেন যে তিনি স্বপ্নে বারবার সাপ দেখছেন। পালানোর সময় শুধু সেই মূর্তিটিই সঙ্গে নিয়েছেন তিনি। আর বিছানায় রেখে যান সাপের খোলস (Snake skin), যাতে সবাই তাঁকে খোঁজার বদলে অলৌকিক ভয়ে সিঁটিয়ে থাকে। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে নিখোঁজ ওই যুবকের সঙ্গেই আছেনরিনা।

পুরোটাই ছিল তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার কৌশল। শেষমেশ রিনার বাবা আসল সত্যিটা বুঝতে পারেন এবং ওই যুবকের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি বিশেষ দল ওই প্রেমিক-যুগলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

–

–

–

–

–


