রিলে আমরা প্যাড ম্যান দেখেছিলাম। এবার রিয়েল দেখা গেল প্যাড ওম্যানকে। তিনি প্রীতি মিঞ্জ (২৮)। চা বাগানের মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং পরিচ্ছন্নতার পাঠ দিতে এবং তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে ওদলাবাড়ির (Odlabari) এই আদিবাসী যুবতী বদ্ধপরিকর। ডুয়ার্সের চা বাগানের ঘরে ঘরে ঋতুকালীন (menstruations) স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটারি ন্যাপকিনের (sanitary napkin) প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতার কথা জানিয়ে এলাকায় ‘প্যাড ওম্যান’ (pad woman) হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। প্রীতির এই কাজের সম্মানস্বরূপ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাঠানো বিশেষ শংসাপত্র ও সম্মাননা বুধবার তাঁর হাতে তুলে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী বুলু চিক বরাইক (Bulu Chik Baraik)।

গত ১০ বছর ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মোকাবিলা করে চা বলয়ের হাজার হাজার কিশোরীকে স্যানিটারি ন্যাপকিন (sanitary napkin) ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলেছেন প্রীতি। এর ফলে শুধু স্বাস্থ্য সচেতনতাই নয়, পাশপাশি মেয়েদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মানও অনেকটাই বেড়েছে। তাঁর এই নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার খবর পৌঁছয় নবান্নে। এদিন মন্ত্রী বুলু চিক বরাইক প্রীতির বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন। মন্ত্রী বলেন, সমাজ গড়ার কাজে প্রীতির মতো তরুণীরাই আসল শক্তি। চা বাগানের প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্য সচেতনতার যে জোয়ার প্রীতি এনেছেন, তা আগামী দিনে উদাহরণ হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন : সাধারণ যাত্রী থেকে পর্যটক সবার দায়িত্ব তাঁর: ৫৫ বছরে ইতিহাস সরিতার

এই স্বীকৃতি পেয়ে আবেগাপ্লুত জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) প্রীতি মিঞ্জ। মুখ্যমন্ত্রীকে (Chief Minister) আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বলেন, কখনও পুরস্কার বা স্বীকৃতির আশায় কাজ শুরু করিনি। শুধু চেয়েছিলাম আমার বোনেরা যেন সুস্থ থাকে। লজ্জা বা ভয় ছাড়া নিজেদের শরীরের যত্ন নিতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর এই স্বীকৃতি আমার দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।

এই স্বীকৃতি পাওয়ায় খুশির হাওয়া বইছে গোটা ওদলাবাড়ি জুড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রীতির এই সাফল্য চা-বলয়ের অন্যান্য মেয়েদেরও সমাজসেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।

–

–

–

–

–


