শহরে সায়ক চক্রবর্তীর (Sayak Chakraborty) সেই ‘গোমাংস কাণ্ড’-র রেশ এখনও ফিকে হয়নি, তার মধ্যেই শুরু নতুন বিতর্ক। এবার মুখোমুখি লড়াইয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee) এবং ছোটপর্দার পরিচিত মুখ অনন্যা গুহ (Anannya Guha)। গাড়ির সমস্যা নিয়ে রাহুলের একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে শুরু হওয়া বাকযুদ্ধ এখন ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছেছে। অভিনেতা ও ইনফ্লুয়েন্সারের এই কাদা ছোড়াছুড়ি এখন টলিপাড়ার হট টপিক।

সম্প্রতি নিজের কেনা একটি নতুন গাড়ি বারবার খারাপ হওয়া নিয়ে একটি নামী সংস্থার বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় ভিডিওর মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দেন রাহুল। ৬ মাসে চারবার গাড়ি বিগড়ে যাওয়ায় ওই সংস্থাকে একহাত নেন অভিনেতা। আর তাতেই সুযোগ বুঝে পাল্টা ‘পাটকেল’ ছোড়েন অনন্যা গুহ। রাহুলের নাম না নিয়েই তিনি খোঁচা দিয়ে লেখেন, ভিডিও বানানো নিয়ে তো রাহুলের খুব আপত্তি ছিল, তবে এখন কি তিনি ফেসবুককে গাড়ির সার্ভিস সেন্টার বানিয়ে ফেলেছেন? আরও পড়ুন: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রেরণা’, কলকাতায় পা রেখে উচ্ছ্বসিত তাপসী

অনন্যা একা নন, ময়দানে নামেন তাঁর দিদি অলোকানন্দাও (Alokananda)। নাম না নিলেও রাহুলকে বিঁধে তিনি লেখেন, “ইন্ডাস্ট্রির কী হাল! এত বড় অভিনেতা হয়েও ভিডিও করতে হচ্ছে?” এখানেই না থেমে অলোকানন্দা রাহুলের ‘চরিত্র’ এবং ‘মাথার মেকানিক’ প্রয়োজন বলেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন । এমনকি তাঁদের নামে মিথ্যে গল্প বানিয়ে রাহুল টাকা কামিয়েছেন বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে রাহুল অবশ্য ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন। অনন্যাকে ‘ভীতু’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাহস থাকলে নাম নিয়ে পোস্ট কেন করছেন না অভিনেত্রী? রাহুলের কথায় উঠে আসে সায়ক-কাণ্ডের সেই পুরনো বিতর্ক । রাহুল সপাট যুক্তি দিয়ে বলেন, তিনি কোটি টাকার কোম্পানির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, কোনো গরিব মানুষকে ধর্ম জিজ্ঞেস করে অপমান করতে যাননি। এর সাথে, ৯টি ছবিতে অভিনয় করার অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি খাটে বসে বিরিয়ানি খাওয়ার ভিডিও বানাই না।” তাঁর মতে, কাজের মানের এই তফাৎটা ছিল এবং থাকবে।

পুরনো সেই গোমাংস বিতর্কের আগুন যে এখনও নেভেনি, রাহুল ও অনন্যার এই বিবাদ তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল। সুকান্ত কুণ্ডু ও অনন্যা গুহদের নাম ওই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় সমালোচনা শুরু হয়েছিল। রাহুল সেই ঘটনায় যথেষ্ট কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তাঁদের দিকে । সেই রাগই যে এখন গাড়ি সংক্রান্ত বাকযুদ্ধের মধ্যেই বেরিয়ে আসছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

–

–

–

–

–


