রাজ্যের সমস্ত বোর্ডের স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা ভাষা শিক্ষাকে আবশ্যিক করার দাবিতে সরব হল বাংলা পক্ষ। মঙ্গলবার এই মর্মে বিকাশ ভবনে স্কুল শিক্ষা দফতরের অধিকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি, স্কুল পাঠ্যসূচিতে ১৯৫২ সালের ঢাকা, ১৯৫৬ সালের মানভূম এবং ১৯৬১ সালের বরাক উপত্যকার ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে কৌশিক মাইতি, প্রীতি মিত্র, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুদীপ্ত দাসের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এদিন শিক্ষা দফতরে যান। তাঁদের অভিযোগ, দেশের অন্যান্য রাজ্যে সেই রাজ্যের মূল ভাষা স্কুলস্তরে পড়া বাধ্যতামূলক হলেও, পশ্চিমবঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় বাদে রাজ্যের বাকি অংশে বাংলা বাধ্যতামূলক করার কথা ঘোষণা করলেও, আজও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি বলেন, ‘২১শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে আমরা ভাষা অধিকার সপ্তাহ পালন করছি। ভিন রাজ্যের বোর্ড হোক বা বেসরকারি স্কুল— বাংলায় থাকতে গেলে বাংলা শিখতেই হবে। অনেক প্রজন্ম এখানে বসবাস করেও অনেকে বাংলা জানেন না, উল্টে বাঙালিদের হেনস্থা করা হয়। এই সংস্কৃতি বদলানো জরুরি।’

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্য প্রীতি মিত্রের অভিযোগ, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি সরকারি স্তরে উদাসীনতার কারণেই বর্তমানে বাঙালিদের নানাভাবে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে। স্কুলস্তরের পাশাপাশি সরকারি চাকরির পরীক্ষাতেও বাংলা বাধ্যতামূলক করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সংবিধানে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন বলে সংগঠন সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন- লেদার কমপ্লেক্সে নজরদারি জোরদার, বসছে ৭৬টি আধুনিক ক্যামেরা

_

_

_

_

_
_

