সুপ্রিম-নির্দেশ অমান্য করে এসআইআর-এর কাজে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দিচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বুধবার দুপুরে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নির্বাচন কমিশনের চ্যাট ‘ফাঁস’ করে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সেই অভিযোগ পেয়ে ঘুম ভাঙল নির্বাচন কমিশনের। তলব করা হল রোল অবজার্ভার মুরুগনের ব্যাখ্যা।

নিজের এক্স হ্যান্ডলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশ্ন তুলে অভিষেক লেখেন, “সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ অমান্য করা যায় বলে কি মনে করে কমিশন? দেশের সর্বোচ্চ আদালত বারবার স্বচ্ছতা, যথাযথ প্রক্রিয়া এবং যোগাযোগের সরকারী চ্যানেলগুলির আনুগত্যের উপর জোর দিয়েছে। তবুও আমরা প্রত্যক্ষ করছি যে নির্দেশগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়ার পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে।“ সেখানে নাম উল্লেখ করে অভিষেক লেখেন, আইনগত এবং জবাবদিহিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ রোল অবজারভার সি মুরুগন মাইক্রো অবজারভারদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জন্ম শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন। প্রমাণ স্বরূপ কমিশনে নিযুক্ত দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ কলকাতার রোল অবজার্ভার সি মুরুগানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন তৃণমূলে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। অভিষেকের অভিযোগের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে তৃণমূলও।

কমিশন সূত্রে খবর, সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই রোল অবজার্ভারকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে তলব করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, “যা অভিযোগ এসেছে তার ভিত্তিতে আমি ব্যাখ্যা চাইব৷”

পাশাপাশি, SIR প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নথি এখনও অনলাইনে তোলা হয়নি কেন তা জানতে সংশ্লিষ্ট ERO ও AERO-দের শোকজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শুনানি শেষ হওয়ার পর চারদিন কেটে গেলেও এখনও মোট ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৭২টি নথি আপলোড বাকি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে ইআরও ও এইআরও-দের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, কোনও আবেদন বাতিল করলে তার নির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। অভিযোগ উঠেছে, বহু ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি। পাশাপাশি ‘ডিসপোজাল’ প্রক্রিয়াও মন্থর গতিতে চলছে। কোথাও কোথাও হঠাৎ সিস্টেম অচল হয়ে যাওয়ার সমস্যার কথাও সামনে এসেছে। এই সব কারণকে সামনে রেখেই শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

আরও পড়ুন- স্কুলে বাংলা আবশ্যিক করার দাবি, বিকাশ ভবনে ডেপুটেশন বাংলা পক্ষের

_

_

_

_

_
_


