Wednesday, April 22, 2026

স্ত্রীকে আঘাত করা দোষের নয়, গার্হস্থ্য হিংসাকে বৈধতা দিল তালিবান সরকার!

Date:

Share post:

তালিবানি ফতোয়ায় নয়া বিতর্ক। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নারী নির্যাতনকে কার্যত বৈধতা দিল তালিবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতোল্লা আখুন্দজাদা (Hibatullah Akhundzada)!আফগানিস্তানে নতুন দণ্ডবিধি জারি করে তালিবান প্রশাসন জানালো স্বামীদের নাকি স্ত্রী ও সন্তানকে শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে(Afghanistan new penal code women rights)।তবে শর্ত একটাই দেহের ‘হাড় ভাঙা’ যাবে না। আইনে বলা হয়েছে কোনও স্বামীর অত্যাচারে হাড় ভাঙার মতো ঘটনা ঘটলে, তবেই সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে কারাদণ্ড। তবে তা মাত্র ১৫ দিনের জন্য!

দাসপ্রথা ফিরিয়ে আনা থেকে শুরু করে প্রকাশ্যে হাজার হাজার দর্শকের সামনে গুলিতে যুবকের দেহ ঝাঁঝরা করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়ে নৃশংসতার চরম নিদর্শন দেখিয়েছিল এই সরকার। এবার মহিলাদের উপর অত্যাচারকে মান্যতা দিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করার সম্পূর্ণ দায় চাপানো হয়েছে মহিলার উপর। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড়। এখানেই শেষ নয়, তালিবান যে কতটা নারী বিদ্বেষী সে প্রমাণও মিলেছে। বলা হয়েছে, কোনও বিবাহিতা মহিলা যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়দের বাড়ি যান, তবে তাঁকে তিন মাস পর্যন্ত কারাবাসের মুখে পড়তে হতে পারে। এছাড়া স্বামীর অত্যাচারে অভিযোগ আনলে স্ত্রীকে আদালতে গিয়ে সেই ক্ষত দেখাতে হবে তাও সম্পূর্ণ শরীর ঢেকে রেখে। সেই সঙ্গে আদালতে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে স্বামী বা কোনও পুরুষ অভিভাবকের উপস্থিতিও বাধ্যতামূলক। ৯০ পাতার নতুন দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০০৯ সালের নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (EVAW)বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে এই আইন মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর হতে চলেছে। আসলে তালিবান বুঝে গেছে কেউ তাদের বিরোধিতা করবে না। এখন প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহল কি এখনও চুপ থাকবে? আরও পড়ুন: শনিবার–রবিবার যাত্রী ভোগান্তি, হাওড়া লাইনে একাধিক লোকাল বাতিল

নতুন আইন অনুসারে আফগান সমাজকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে – ধর্মীয় পণ্ডিত, অভিজাত শ্রেণি, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত। অভিযুক্তদের সামাজিক অবস্থান বুঝে অপরাধের শাস্তি হবে। মানে এখানেও পক্ষপাতিত্বের ঘটনা। পণ্ডিত অপরাধ করলে তাঁকে শুধু পরামর্শ দেওয়া হবে। অভিজাতরা অপরাধ করলে আদালতে তলব, মধ্যবিত্তদের জন্য কারাদণ্ড এবং নিম্নবিত্তের জন্য কারাদণ্ড এবং শারীরিক শাস্তি। সবথেকে অদ্ভুত বিষয় হল এই শাস্তি কার্যকর করবেন ইসলামি ধর্মগুরুরা।

Related articles

বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের গুলি: মনিপুরে অনুষ্ঠান ঘিরে রণক্ষেত্র মনিপুর, গুলিবিদ্ধ ১

একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী ফটোশুটে বাংলায় ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। অন্যদিকে মনিপুরে দাবি আদায়ে গুলি খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দুটি...

ফায়ার স্টেশন থেকে পোর্টের জমি পুনরুদ্ধার! বড়বাজারের ভোলবদলের কথা মনে করিয়ে দিলেন নেত্রী

বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকা বড়বাজারের জমি পুনরুদ্ধার থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য কমিটি— তৃণমূল জমানায় বড়বাজার এলাকায় উন্নয়নের জোয়ার। মঙ্গলবার...

ড্রাই ডে করল কে? কমিশনের প্রশাসন আর সিইও-র দায় ঠেলাঠেলি!

রাজ্যের প্রশাসনের সব ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের হাতে। অথচ কমিশনের নির্দেশ ছাড়া না কি কাজ করছে আবগারি দফতর! রাজ্যে...

ডিএ বৃদ্ধি-প্রকল্প ঘোষণা জুমলা সরকারের ‘নির্বাচনী টোপ’! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন নেত্রী

বাজেটে কোনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্র। ভোটের মুখে বিধি ভেঙে মাতৃশক্তি কার্ড বিলি, আবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের ২ শতাংশ...