একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী ফটোশুটে বাংলায় ঝালমুড়ি খাচ্ছেন। অন্যদিকে মনিপুরে দাবি আদায়ে গুলি খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। দুটি নিরীহ শিশুর মৃত্যুর বিচার চেয়ে মেইতি সম্প্রদায়ের মানুষের বিক্ষোভে এবার গুলি (firing) চালাতেও পিছপা হল না বিজেপির প্রশাসন। মঙ্গলবার গুলিবিদ্ধ (bullet injured) ১। রাতের পর রাত জেগে বিচার চেয়ে আন্দোলনে মনিপুর (Manipur) প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচার, ধরপাকড় মনে করিয়ে দিচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার হিংসাকে।

৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুরে দুই শিশুর বিস্ফোরণে মৃত্যুর পর থেকে নতুন করে উত্তপ্ত মনিপুর। মেইতি সম্প্রদায়ের অভিযোগ, নিহতদের পরিবারকে এখনও কোনও নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে পারেনি ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের (Y Khemchand Singh) প্রশাসন। উপরন্তু প্রতিবাদ করলে দমন করার জন্য এগিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
গত এক সপ্তাহে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে বিষ্ণুপুর, থৌবল প্রভৃতি মেইতি অধ্যুষিত এলাকায়। বাহিনীর ১ জওয়ানসহ মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৫জনের। মঙ্গলবার ফের থৌবলের ওয়াংজিং ব্লকে বিডিও অফিসের ভবন উদ্বোধন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিডিও অফিসের ভবন উদ্বোধনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিংয়ের। তার আগেই স্থানীয় মহিলারা ইম্ফল থেকে ওয়াংজিংগামী মূল রাস্তা অবরোধ করেন। হেলিকপ্টারে ২০ কিমি পার হন মুখ্যমন্ত্রী। শেষ গ্রামের রাস্তা পার হওয়ার সময় স্থানীয়রা বিডিও অফিস উদ্বোধন ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে। বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) দিয়ে বিক্ষুদ্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার কাজ শুরু হয়। সেই সময়ই মনিপুর পুলিশ (Manipur police) বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালায়। ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন একজন।

আরও পড়ুন : ফের উত্তপ্ত মনিপুর: প্রাণ গেল দুই শিশুর, CRPF-র গুলিতে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ!

ঘটনার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে সন্ধ্যা হতেই ফের থৌবলের একাধিক এলাকায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দারা। মূল দাবি, দুই শিশুর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতার প্রতিবাদ জানান তাঁরা। যথারীতি গত তিন রাতের মতো ফের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ ও বাহিনী বিক্ষোভকারীদের উপর।

–

–
–
–
