কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সবরকমভাবে সরব হয়েছে, এবং সাফল্যের মুখ দেখেছে, তাতে একের পর এক বিরোধী দলগুলি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেখানে বারবার তৃণমূলের ইস্যুতে পাশে দেখা যায়নি সাম্প্রতিক রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসকে (Congress)। তবে আদতে যাঁরা বাস্তবে কংগ্রেস মনষ্ক, তাঁরা যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই রয়েছেন, দাবি করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার (Mani Shankar Aiyar)। ব্যতিক্রম নয় বাংলার কংগ্রেস নেতারাও, দাবি প্রবীণ নেতার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাম্প্রতিক নেতৃত্ব দেখেই এমন মনোভাব, দাবি তৃণমূলের।

রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে বারবার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন মণিশঙ্কর আইয়ার। সম্প্রতি নেহেরুর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেসের সঙ্গে তুলনা টানায় মণিশঙ্করকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সেখানেই মণিশঙ্করের দাবি, আসল কংগ্রেসের নেতারা তাঁকে বহিষ্কারের কথা বলেন না। ঘুরিয়ে সেই কথা বলতে গিয়েই তিনি দাবি করেন বর্তমানেও কংগ্রেসের মুষ্টিমেয় নেতা ছাড়া সকলে তৃণমূলের পক্ষেই রয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেস আমাকে বের করে দিচ্ছে কি না তা কংগ্রেসের নেতারাই বলতে পারবে। তাঁদের কাছেই জিজ্ঞাসা করুন, যদি কোনও কংগ্রেসি নেতা পান তবে। আমি যতদূর জানি গোটা কংগ্রেসটাই তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে আছে। কিছু লোক আছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরির (Adjir Ranjan Chowdhury) মতো। তাদের বাদ দিয়ে তো বাকি সবাই ওদিকেই রয়েছে।

কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের যোগ প্রসঙ্গে নস্টালজিক মণিশঙ্কর আইয়ার। তিনি নিজে তৃণমূলের সঙ্গে নিজের যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে টেনে আনেন প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। তিনি জানান, আমি নিজে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের জাতীয় সম্পাদক ছিলাম তৃণমূল কংগ্রেসে। আমি এখানে দলে যুক্ত হয়েছিলাম ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরের শেষে। তিন সপ্তাহ পরে জানলাম এটা বাঙালিদের দল। তাই তৃণমূল ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তিন সপ্তাহ আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত ছিলাম। প্রণব মুখোপাধ্য়ায় (Pranab Mukherjee) আমায় জানিয়েছিলেন, আমার বক্তব্য একদম ঠিক ছিল। আমরা এতটাই ব্যর্থ ছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) আমাদের লোক হিসাবে গ্রহণ করার বদলে তাঁকে একা করে দিয়েছিলাম। ফল? কংগ্রেস (Congress) শেষ হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন : বিশ্বকাপে নজর কাড়ছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা, মন কি বাতে ক্রিকেটারদের প্রশংসায় মোদি

শুধুমাত্র অতীত নয়, যেভাবে বর্তমানেও দেশের সব বিরোধী দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে রয়েছে তা উল্লেখ করেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। মণিশঙ্কর আইয়ারের কথার রেশ ধরেই তিনি জানান, নির্বাচন নিয়ে আমরা ব্যস্ত। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য বিজেপিকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করে চতুর্থবারের জন্য তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠা করা। মণিশঙ্কর আইয়ারও অনেক প্রবীণ নেতা। সারাদেশে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকে কারা সঠিক নৈতিক লড়াই দিচ্ছে। গোটা দেশে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপিকে লড়াই দিচ্ছে। হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বিহার যেসব দলগুলির উপর দায়িত্ব ছিল বিজেপির ষড়যন্ত্র আটকানোর, তারা সেই দায়িত্ব ফেল করেছে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছেন। আমার জনগণের সঙ্গে, গণতান্ত্রিক পথে। সেই জন্য পুরো দেশের ধারণা হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিজেপিকে পরাজিত করে দেখিয়েছেন। তিনিই একমাত্র পরাস্ত করতে পারেন।

–

–

–

–

–

