পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) কাঁথিতে প্রচারে গিয়ে বিক্ষোভের (Kanthi Protest) মুখে পড়লেন উত্তর কাঁথির বিজেপি বিধায়ক সুমিতা সিনহা। রবিবার কাঁথি-৩ ব্লকের ভাজাচাউলী গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিনা পাসদলবাড় গ্রামে গৃহ-সম্পর্ক অভিযানে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। হাতে ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান (Go Back Slogan) ওঠে। পরিস্থিতির জেরে শেষ পর্যন্ত এলাকা ছাড়েন বিধায়ক। ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

রবিবার সকাল প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত (Man Ki Baat) শোনার পর বিজেপি নেতাকর্মীদের নিয়ে গৃহ সম্পর্ক অভিযানে বের হন বিজেপি বিধায়ক। বেশ কয়েকটি মোটরবাইকে করে একের পর এক গ্রামে পৌঁছান বিজেপির বিধায়ক। এদিন ১১টা নাগাদ ডুমুরবেড়িয়া হয়ে হরিনা পাসদলবাড় গ্রামে বিজেপি বিধায়ক প্রবেশ করতেই শুরু হয় গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ। হাতে ঝাঁটা নিয়ে তেড়ে যান গ্রামবাসীরা। তাকে ঘিরে গো ব্যাক স্লোগানও দেওয়া হয়। শেষমেষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন বিজেপি বিধায়ক সুমিতা সিনহা। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ভোটের পর গত সাড়ে চার বছরে এলাকায় নিয়মিত যোগাযোগ রাখেননি বিধায়ক। ভোট ঘনিয়ে আসতেই প্রচারে নামায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। তাঁদের দাবি ভোটের আগেও গালভর্তি প্রতিশ্রুতির বহর দেখিয়ে যান। কিন্তু ভোট ফুরালেই ডুমুরের ফুল। আরও পড়ুন: বিজেপির মধ্যপ্রদেশে ফের আক্রান্ত বাঙালি: মালদার শ্রমিককে ছুরির কোপ!

কাঁথি- ৩ ব্লকের এই ভাজাচাউলী অঞ্চল তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অঞ্চলটিও বর্তমানে তৃণমূলের দখলে। লোকসভা নির্বাচনেও এই অঞ্চল থেকে তৃণমূল ব্যাপক ভোটে এগিয়েছিল। সেই জায়গায় বিজেপি বিধায়ককে ঝাঁটা দেখানোর ঘটনায় তৃণমূল যোগ দেখছে বিজেপি। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার তৃণমূল কো-অর্ডিনেটর তরুণ জানা বলেন, ‘তৃণমূল এই কালচারে বিশ্বাসী নয়। মানুষ তার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করেছেন। এতদিন বিজেপি বিধায়ক ওই এলাকায় কোনোরকম পা মাড়াননি। হঠাৎ ভোট আসতেই এভাবে বিজেপি বিধায়কের জনদরদী মনোভাবে মানুষ ভালো চোখে নেয়নি। তাই তারা এভাবে তাড়িয়েছে।’ ঘটনার পর বিধায়ক সুমিতা সিনহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ঘটনায় জেলায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে।

–

–

–

–

–

–

–

