খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীনে এনসিইআরটি। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বর্ষের একাধিক সিলেবাসে এমন বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী থেকে শিক্ষা মহল। এবার সেই এনসিইআরটি-র সিলেবাসে বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি! সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই প্রসঙ্গ উঠতেই তীব্র ভর্ৎসনা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর (Surya Kant, CJI)। গোটা বিষয়টিতে তিনি অবগত রয়েছেন বলে পর্যবেক্ষণে জানিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা (suo motu case) দায়েরের কথাও জানান তিনি। সেই সঙ্গে দাবি করা হয়, এটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের নতুন শিক্ষানীতি অনুযায়ী তৈরি এনসিইআরটি-র (NCERT) অষ্টম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্স (social science) বিষয়ের সিলেবাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করা হয়েছে ‘বিচারব্যবস্থায় দুর্নীতি’ বিষয়ে। তারই উল্লেখ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সামনে করেন আইনজীবী ও দুই কংগ্রেস নেতৃত্ব কপিল সিবল ও অভিষেক মনু সাংভি। উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, তিনি এই বিষয়টি জানেন। এই বিষয়ে বিচারপতি মহল ও আইনজীবী মহল অত্যন্ত বিচলিত।

যেভাবে এই ধরনের পদক্ষেপে বিচার ব্যবস্থার জন্য কতটা সম্মানহানিকর, তা আদালতে তুলে ধরেন কপিল সিবল। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াদের এটা শেখানো হতে পারে যে বিচার ব্যবস্থা দুর্নীতিপূর্ণ। এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হিসাবে এনসিইআরটি-র এই সিলেবাস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

উত্তরে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান তিনি বিষয়টি জানেন। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে তাঁর কাছে অনেক ফোন এসেছে। তিনি জানান, বিষয়টি এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত সব মানুষের কাছেই বিচলিত হওয়ার মতো। সেই সঙ্গে নিশ্চিত করেন যে সুপ্রিম কোর্ট এই নিয়ে হাত গুটিয়ে থাকবে না। ইতিমধ্যেই রেজিস্ট্রিকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন স্বতঃপ্রণোদিত (suo motu case) মামলা রুজু করার। একদিনের মধ্যেই তা কার্যকর হতে পারে।

অর্থাৎ এবার এনসিইআরটি-র (NCERT) বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে চলেছে খোদ সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, কোনওভাবেই বিচার ব্যবস্থার অখণ্ডতার উপর আঘাত সহ্য করা হবে না। সেটা যে-ই করে থাকুক তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : SIR নথি হস্তান্তরের ডেডলাইন বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট: মাধ্যমিক অ্যাডমিটে নতুন নির্দেশিকা

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর আরও পর্যবেক্ষণ, মনে করা হচ্ছে এটি একটি পরিকল্পিত ও গভীর পদক্ষেপ। এর বেশি কিছু বলতে চাই না। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আইন প্রতিমন্ত্রী ভি এস মাথেশ্বরণ জানিয়েছেন, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে ৭,৫২৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। আর এই উত্তরের পরেই এনসিইআরটি-র বইতে সিলেবাস বদল বিজেপির পরিকল্পিত পদক্ষেপের ইঙ্গিত বলে মত আইনজীবী মহলের।

–

–

–

