গোটা এসআইআর (SIR) পর্বে সাধারণ মানুষদের মতোই দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা ক্রীড়াবিদদেরও কমিশনের শুনানির মুখে পড়তে হয়। তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণে পেশ করতে হয় নথি। ভোটার তালিকা প্রকাশের পরও বিতর্ক অব্যাহত। রিচা ঘোষের পর এবার সোনিয়া বৈশ্য(Soina boishya)। সোনার মেয়ের নামের উপরও বিচারাধীন(Adjudication) সিলমোহর দিয়েছে কমিশন।

রায়গঞ্জের সোনার মেয়ে সোনিয়া(Soina boishya), বাংলা তথা ভারতের খেলাধুলায় পরিচিত নাম। একাধিক আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন, পদক জিতেছেন। রাজ্য ও দেশকে গর্বিত করেছেন। ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ‘বিচারাধীন’(Adjudication) শ্রেণিতে রাখায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সোনিয়া খেলোয়াড় বিদেশের মাটিতে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছেন, নিজের এলাকায় তাঁর নাগরিকত্বের নথি যাচাইয়ের দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। রায়গঞ্জের মোহনবাটি এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া বৈশ্য অ্যাথলেটিক্সে দেশের হয়ে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন এবং সোনা জিতে দেশের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। বর্তমানে তিনি মুম্বইয়ের রিলায়েন্স স্পোর্টস সেন্টারে প্রখ্যাত কোচ জেমস হিলারের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যদিও বর্তমানে হাঁটুর চোটের কারণে তিনি কিছুটা বিশ্রামে রয়েছেন।

সোনিয়ার বাবা বরেন্দ্র কুমার বৈশ্য ও মা মমতা বৈশ্য দুজনেই রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর । পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম স্বাভাবিক তালিকায় থাকলেও, শুধুমাত্র মেয়ের নামই কেন ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রাখা হলো, তা নিয়ে রীতিমত বিভ্রান্ত তারা ।গত ১৫ জানুয়ারি রায়গঞ্জ বিডিও অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে আধার কার্ড, স্কুল সার্টিফিকেট ও জন্মসনদ জমা দেন সোনিয়া। সেখানে তাঁর ছবিও তোলা হয়।

সোনিয়া জানিয়েছেন, “আমরা যারা দেশের হয়ে খেলি, আমাদের নাম অন্তত এমন তালিকায় থাকা কাম্য নয়। পরিবারের সবার নাম ঠিক থাকলেও শুধু আমার নামই কেন আটকে? আমি নিজে গিয়ে হিয়ারিং দিয়েছি, সব কাগজপত্র দিয়েছি।”

সোনিয়ার বাবা বলেন, “যে মেয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছে, সোনা জিতছে, তার সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও কীভাবে নাম বিচারাধীন থাকে, তা ভেবে অবাক হচ্ছি।”

–

–
–
–

