আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিনব আন্দোলনে নামলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রীরা। রবিবার ধর্মতলায় কালো শাড়ি পরে হাতে হাতা ও খুন্তি নিয়ে প্রতিবাদ মিছিলে শামিল হন তাঁরা। প্রতিবাদ সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির বিরুদ্ধে সরব হন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।

শশী পাঁজার অভিযোগ, যুদ্ধ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে কেন্দ্র। তাঁর কথায়, নারী দিবসেই মহিলাদের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধিই কেন্দ্রের উপহার। সকাল থেকেই শুকনো কড়াই ও খুন্তি হাতে নিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন আন্দোলনকারীরা। মন্ত্রী বলেন, গ্যাসের দাম লাগাতার বাড়তে থাকায় সংসার চালানো সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই কমিশন কাজ করছে।

মহিলাদের ব্যক্তিগত পরিচয় বা পদবী নিয়ে বিজেপির সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেন শশী পাঁজা। তাঁর বক্তব্য, বিয়ের আগে বা পরে কোন পদবী ব্যবহার করবেন, তা সম্পূর্ণ নারীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে অন্য কারও নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই।

নারী সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। শশী পাঁজার দাবি, লোকসভায় বিজেপির মহিলা সাংসদের হার যেখানে প্রায় ১৫ শতাংশ, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসে তা প্রায় ৩৭ শতাংশ। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু আগেই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নারীদের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছেন।

অপরাজিতা বিল আটকে রাখার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে আক্রমণ করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও বিহারের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিলকিস বানু মামলায় দোষীদের মুক্তির প্রসঙ্গ টেনেও কেন্দ্রের সমালোচনা করেন। নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা নানা মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শশী পাঁজা বলেন, তাঁকেও বিচারাধীন তালিকায় ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁকে কি বাংলাদেশি, রোহিঙ্গা না অনুপ্রবেশকারী বলা হচ্ছে—এই বিষয়ে বিজেপিকেই স্পষ্ট জবাব দিতে হবে। সভা শেষে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, এই মঞ্চ বিশ্বাসের জায়গা, আর মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই থেকেই আন্দোলনের শক্তি আসে।

আরও পড়ুন- রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাল নবান্ন

_

_

_

_
_

