শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর (Droupadi Murmu) যোগ দেওয়া ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠাল নবান্ন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে এই রিপোর্ট পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী (Nandini Chakraborty)।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা সহ একাধিক নথিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাক্রম, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলির কারণ রিপোর্টে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না রিপোর্টে তারও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়েও কেন্দ্রকে জানানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক প্রোটোকল মেনেই করা হয়েছে এবং সেই সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ও নথি কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফর নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের চিঠি প্রকাশ করে দেওয়ার পরে রিপোর্ট চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট তলব করা হয়। শনিবার, শিলিগুড়িতে সফরে এসে অনুযোগ করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ (Droupadi Murmu)। বলেন, ”মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আমার ছোট বোনের মতো। আমিও বাংলারই মেয়ে। বাংলার মানুষকে আমি ভালোবাসি। মমতা বোধহয় রাগ করেছেন, তাই আমাকে স্বাগত জানাতে তিনি নিজে আসেননি, কোনও মন্ত্রীও আসেননি।” এর জবাব ধর্মতলার ধর্না মঞ্চ থেকেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজ বিজেপি সংবিধানটা কোথায় নিয়ে গিয়েছে। আমরা বলতে নিজের লজ্জা লাগছে। মাননীয় রাষ্ট্রপতি আমরা তাঁকে সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে। বিজেপির এজেন্ডা পাঠানো হয়েছে। আমি দুঃখিত ম্যাডাম। আপনার প্রতি আমার যথেষ্ট সম্মান আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির ট্র্যাপে পড়ে গিয়েছেন।”

এর পাল্টা রাতে ফের স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে।” মোদির অভিযোগ, জনজাতি সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা রাষ্ট্রপতির এই বেদনা ভারতের মানুষের মনে দুঃখ দিয়েছে এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাঁওতাল সংস্কৃতিকে হালকাভাবে দেখছে। প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উড়িয়ে এর মোক্ষম জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। এক্স হ্যান্ডেলে প্রশাসনিক নথি দিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন মমতা। লেখেন, “বেসরকারি সংস্থা আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল শিলিগুড়িতে তাঁদের সম্মেলনে মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে এই অনুষ্ঠানের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছিল না। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে রাষ্ট্রপতি সচিবালয়কে লিখিতভাবে অবহিত করা হয় এবং ফোনেও বিষয়টি জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের আধিকারিকরা গত ৫মার্চ সভাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানেও তাঁদের এই বিষয়ে জানানো হয়। তারপরও এই কর্মসূচি নির্ধারিত দিনে বহাল রাখা হয়।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “সম্মানীয় রাষ্ট্রপতি শিলিগুড়িতে পা রাখার পর প্রোটোকল মেনেই সেখানে যান শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার। প্রথা মেনেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা ও বিদায় জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে স্বাগত জানানো বা মঞ্চে থাকার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। জেলা প্রশাসন সেখানে উপস্থিত থাকায় প্রোটোকল ভাঙার প্রশ্নই ওঠে না।”

রাজ্য প্রশাসন রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছিল- সেই কথা প্রকাশ পেতেই এখন সফরের খুঁটিনাটি জানতে চেয়ে রাজ্যের রিপোর্ট চেয়েছিল অমিত শাহর মন্ত্রক। রবিবার বিকেলের মধ্যে লিখিত ভাবে জানাতে বলা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে রিপোর্ট পাঠাল নবান্ন।

–

–

–

–

–

