দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জ্বালানি ভাণ্ডারের তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। শেষ পর্যন্ত গৃহস্থের হেঁসেলে টান পড়তে সব লুকোচুরি শেষ। যখন গোটা দেশের বড় শহরগুলিতে ৫০ শতাংশ হোটেল (hotel industry) বন্ধ হওয়ার মুখে, সারি সারি যানবাহন সিএনজির (CNG) অভাবে ধুঁকছে, শেষ পর্যন্ত ইসিএ (Essential Commodities Act) জারি করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টায় নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সরকার। নির্দিষ্ট করে দেওয়া হল কোন কোন ক্ষেত্রে জ্বালানি গ্যাস চাহিদার ভিত্তিতে পাওয়া যাবে। কেন্দ্রের নির্দেশের পরে দেশে জরুরী নয় (non-essential) এমন সংস্থাগুলিতে আপাতত গ্যাস সরবরাহ করা হবে না বলেই জানালো তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যে কোন দেশেই জ্বালানির খরচ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী (Strait of Harmuj) অবরুদ্ধ করে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ চললেও ভারতে তার কোন প্রভাব পড়তে পারবে না এমনটাই প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার ও কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক (Ministry of Petroleum and Natural Gas)। প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট যে বাস্তবে ভারতের রয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসতেই এবার জারি হল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন (ECA), ১৯৫৫। একদিকে যেমন কোন কোন ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক গ্যাসের (natural gas) সরবরাহ গুরুত্ব পাবে তার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, অন্যদিকে কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে সেই গ্যাস সরবরাহ হবে তারও তালিকা বেঁধে দিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

কেন্দ্রের সরকারের এসমা অনুযায়ী ঘরোয়া পাইপ লাইনে সরবরাহ হওয়া গ্যাস সবথেকে দ্রুত সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপরেই যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় সিএনজি সরবরাহের নির্দেশ রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে সরবরাহ হওয়া গ্যাসকে (natural gas) প্রাথমিক গুরুত্বের তালিকায় রাখা হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রাপকের জায়গা পেয়েছে সার প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলি। এরপরের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চা বাগান, উৎপাদন শিল্প এবং যেসব শিল্প ক্ষেত্রে গ্যাসের সরবরাহ প্রয়োজন, সেই ক্ষেত্রগুলিকে এইসব ক্ষেত্রগুলিকে তাদের উপভোগের ৮০ শতাংশ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরাঞ্চলে যেসব শিল্প ক্ষেত্রগুলি রয়েছে তারা গত ছয় মাসে যে পরিমাণ গ্যাস কিনেছে তার ৮০ শতাংশ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি গ্যাসের দাবিদার ক্ষেত্রগুলিতে গ্যাসের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থাগুলি কতটা গুরুত্ব পাবে, তারও তালিকা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় প্রথমে রয়েছে ওএনজিসি (ONGC) দ্বিতীয় স্থানে গেইল (GAIL) এবং তৃতীয় স্থানে রিলায়েন্সের। এর পরেই সমস্ত পাওয়ার প্লান্টগুলিকে (power plant) গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : কেন্দ্রের ভ্রান্ত নীতিতে এসএসকেএম হাসপাতালে গ্যাস সংকট: ঘরোয়া গ্যাসে রোগীর রান্না

কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরেই দেশের অন্যতম এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থা ইন্ডিয়ান অয়েল (Indian Oil) ঘোষণা করেছে, তারা বাড়ির গ্যাস এবং জরুরি পরিষেবা হাসপাতাল ও স্কুলের মত জায়গায় ঘরোয়া গ্যাসের সরবরাহে জোর দিচ্ছে। বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রগুলি অনুরোধ অনুযায়ী বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত সরবরাহ হচ্ছে না।

–

–

–

–

