অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারীভাবে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অন্দরের খবর, এই লক্ষ্যে দশ পাতার একটি বিস্তারিত নোটিশ ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে প্রস্তুত এই প্রস্তাবটি পেশ করার প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনার নিজের সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করছেন এবং বাংলার ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতি করে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দিচ্ছেন। এই কার্যক্রমকে সংবিধানের পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। সংসদীয় নিয়মানুযায়ী, লোকসভায় ন্যূনতম ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন এমন প্রস্তাব পেশ করার জন্য। সূত্রের খবর, তৃণমূলের এই উদ্যোগে বিরোধী শিবিরের সাংসদরাও স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিচ্ছেন, ফলে প্রয়োজনীয় সই সংগ্রহ করতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূলের দাবি, এটি কেবল তাঁদের দলীয় লড়াই নয়, বরং দেশের আমজনতার ভোটাধিকার সুরক্ষার লড়াই। এই বার্তাকে সামনে রেখেই বিরোধী শিবিরের অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় সাধনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার বিরোধী শিবির সূত্রে জানানো হয়েছে, ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবকে সমর্থন জানাতে তারা এককাট্টা। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, নোটিশটি সচিবালয়ে পেশ করার পর তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটিই যাচাই করবে নোটিশটি গ্রহণ করা হবে কি না। যদি প্রস্তাব গৃহীত হয়, তবেই সংসদে তা নিয়ে বিতর্ক হবে এবং শেষে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি সত্যিই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, তবে ভারতের ইতিহাসে জ্ঞানেশ কুমার হবেন প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার যার বিরুদ্ধে এই ধরনের নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চলতি সপ্তাহেই এই নোটিশ পেশের তোড়জোড় চালাচ্ছে তৃণমূল।

আরও পড়ুন- ‘ভ্যানিশ কুমার’: ধর্মতলার মঞ্চ থেকে নির্বাচন কমিশনারকে বিঁধলেন তন্ময়

_

_

_

_

_

_
_

