সংসদে বিজেপি বিরোধী স্বর চেপে দেওয়ার সব রকম প্রচেষ্টা করে মোদি সরকার (Modi Govt.)। কখনও বিরোধী সাংসদদের অভিবেশন থেকে সাসপেন্ড করে বা কখনও তাঁদের সদস্যপদ কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা করে বিজেপি। লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Govt.) বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের (Mohua Moitra) বিরুদ্ধেও ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ করার অভিযোগ তুলে মামলা করেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সেই মামলায় ধাক্কা খেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় সিবিআই চার্জশিটে স্থগিতাদেশ জারি করল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। শুক্রবার, তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই-এর পেশ করা চার্জশিটের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে এদিন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ মূল অভিযোগকারী নিশিকান্ত দুবের কাছে জবাবদিহি তলব করেছে। আদালতের তরফ থেকে মহুয়াকে এবং তদন্তকারী সংস্থাকেও ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

১২ নভেম্বর ঘটনার সূত্রপাত। ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল লোকপাল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে যান মহুয়া। ১৯ ডিসেম্বর লোকপালের পুরনো নির্দেশটি খারিজ করে এবং ‘আইনগত ত্রুটি’ সংশোধন করে চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। পরে লোকপালের আবেদনে দু’মাস সময় বাড়ানো হলেও চার্জশিট পেশ করতে পারেনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তারপর আর সময় বাড়ায়নি দিল্লি হাই কোর্ট। পরবর্তীতে সময়সীমা নিয়ে জট তৈরি হওয়ায় মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছয়। কিন্তু শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ লোকপাল আইনের ২০ নম্বর ধারায় দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে ‘লোকপালের বিবেচনাধীন’ অংশটিতে (৮৯ নম্বর অনুচ্ছেদ) স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আরও পড়ুন: ব্রিগেডের মোদির সভার জেরে শনিবার কলকাতায় যান নিয়ন্ত্রণ

মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, গত লোকসভার সদস্য থাকাকালীন শিল্পপতি দর্শন হিরা নন্দানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সংসদে গৌতম আদানির বিরুদ্ধে প্রশ্ন করেন। ঝাড়খণ্ডের বিজেপি বিধায়ক নিশিকান্ত দুবে অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিল্পপতি গৌতম আদানিকে অস্বস্তিতে ফেলতেই পরিকল্পনা করেন। সিবিআই দাবি করেছিল, নিজের সংসদের ‘লগ ইন আইডি’ ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন হিরা নন্দানিকে। যা ব্যবহার করে ৬১টি প্রশ্ন পোস্ট করা হয় বলে অভিযোগ। এথিক্স সভার সুপারিশ মেনে ২০২৩ সালে মহুয়ার লোকসভার সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালে ফের তৃণমূলের হয়ে কৃষ্ণনগর থেকে ভোটে জিতে সংসদে যান মহুয়া। তবে এদিন সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই-এর পেশ করা চার্জশিটের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করার পর আপাতত স্বস্তিতে কৃষ্ণনগরের সাংসদ।

–

–

–

–

–

–

–


