বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) উদ্যোগে টলিউডের কলাকুশলীদের জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে আয়োজিত রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পে হাজির হয়ে তৃণমূল সাংসদ-অভিনেতা দেব (Dev) অভিযোগ করেন যে ফেডারেশনের তরফে নাকি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা হয়েছে। এমনকি কলাকুশলীদের এই প্রকল্পের জন্য নাম নথিভুক্ত করতে বারণও করা হয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। পাল্টা জবাব দিলেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। স্পষ্ট জানালেন তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা।

বাংলা সিনেমা জগতের টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে টলিপাড়ায় নতুন বিতর্ক। একদিকে দীপক অধিকারী ওরফে দেব (Dev) অন্যদিকে স্বরূপ বিশ্বাস। শনিবার দুপুরে অভিনেতার অভিযোগ, স্বরূপ বিশ্বাস না কি বলেছেন স্বাস্থ্যসাথী ভালো নয় অন্য প্রকল্প আরও ভালো। সত্যিই কি এমন কোনও মন্তব্য করেছেন ফেডারেশন সভাপতি? উত্তর জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হয় স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে। বিশ্ববাংলা সংবাদকে তিনি জানান, “দেব অত্যন্ত একজন গুণী শিল্পী। উনি আমাদের বাংলার গৌরব। উনি একজন বড় প্রযোজকও বটে। আমি ওনাকে অনুরোধ করব যে উনি যদি কোন জায়গায় আমাদের তরফ থেকে এই সংক্রান্ত কোনও বাইট বা বিজ্ঞপ্তি দেখান, মানে যেখানে আমরা বলেছি যে এই প্রকল্পটা ভালো নয়, তাহলে সেটা প্রকাশ্যে আনার কথা বলব। উনি কার দ্বারা প্রভাবিত হয় এ কথা বলেছেন সেটা উনিই বলতে পারবেন কারণ আমরা তো এমন কোনও কথা বলিনি। দ্বিতীয়ত আমি ওনার জ্ঞাতার্থে জানাই, দুয়ারে সরকারে সব থেকে বেশি স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প করা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই প্রকল্প করেছিলাম। শুধু তাই নয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো সেগুলো মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছিলাম। আমি জানিনা উনি (দেব) কোনও দুয়ারে সরকারের এরকম প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছিলেন কিনা কিংবা মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই ধরনের প্রকল্প গুলোকে পৌঁছে দিয়েছিলেন কিনা। আমরা করেছি। এর অনেক প্রমাণ আছে। মানুষ সব জানে।”

শনিবার টেকনিশিয়ান স্টুডিওতে (Technicians Studio) যখন স্বাস্থ্য সাথী ক্যাম্পের রেজিস্ট্রেশন হচ্ছিল তখন সেখানে স্বরূপ বিশ্বাসকে দেখা যায়নি। এনিয়েও আক্রমণ করতে ছাড়েন নি দেব (Dev)। পাল্টা স্বরূপ জানিয়েছেন, প্রত্যেকের নির্দিষ্ট কিছু কাজের সিডিউল আগে থেকে করা থাকে। শুক্রবার অনেক রাতে ফেডারেশনকে ইমেইল করা হয়েছিল। তাঁর ব্যক্তিগত কাজ থাকার দরুণ তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। কিন্তু তাতে তো কিছু আটকে থাকে নি। অসংখ্য কলাকুশলী রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন যদি ফেডারেশন বাধা দিত তাহলে কি সেটা করা সম্ভব হত? এই প্রসঙ্গে FCTWEI সভাপতি সাংসদ-অভিনেতাকে খোঁচা দিয়ে বলেন ফেডারেশনের অনেক অনুষ্ঠানেও দেবকে চিঠি দিয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি সবসময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। এটা হতেই পারে কারণ প্রত্যেকের নিজস্ব কাজ থাকে। এখানেই শেষ নয় দেবের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যে দাবি করে স্বরূপ আরও বলেন, যাঁর কাছ থেকে অভিনেতা- সাংসদ এই তথ্য পেয়েছেন তিনি ওনাকে মিসগাইড করেছেন। দেব একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। তাই এই ধরনের মন্তব্যের আগে তাঁর উচিত সত্যতা যাচাই করে নেওয়া। এদিন স্বরূপের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে ঘাটালের সাংসদ টেনে এনেছিলেন অরূপ বিশ্বাসকেও। ফেডারেশন সভাপতির মন্তব্যের ব্যাখা চেয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রীর কাছে। স্বরূপকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ” এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। উনি মন্ত্রী আর দেব আমাদের সাংসদ। তবে দেব বলেছেন যে কেউ কেউ এসি ঘরে থাকে বলে এই স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের মর্ম বোঝেন না। ওনার কাছ থেকে এই ধরণের মন্তব্য কাঙ্খিত নয়। এটা সকলেই জানেন যে আমি এসি ঘরে থাকি না এবং বেশিরভাগ সময় বাইকে চড়ে যাতায়াত করি। যাঁরা এসি গাড়ি বাড়িতে থাকেন তাঁরা হয়তো সকলকেই সেরকম মনে করেন।” স্বরূপ বিশ্বাসের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকা নিয়ে দেবের খোঁচার প্রত্যুত্তরে অভিনেতার নিজের এই কার্ড আছে কিনা সে প্রশ্নও ছুড়ে দেন ফেডারেশন সভাপতি।

–

–

–

–

–

–

–
–

