চোখের সামনে ছেলেকে ১৩ বছর ধরে যন্ত্রণার সঙ্গে লড়তে দেখেছেন। সবরকম চেষ্টা করেও কোমার ‘ লাইফ সাপোর্ট’ থেকে বের করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেননি। ছেলের যন্ত্রণা আর সহ্য করতে না পেরে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিল পরিবার। অবশেষে শীর্ষ আদালত হরিশের (Harish Rana) লাইফ সাপোর্ট তুলে নিয়ে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ (Right To Die with Dignity) দিয়েছে।

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে দেখা যাচ্ছে, হরিশের বোন ব্রহ্মাকুমারী তাঁকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন। হরিশের কপালে তিলক এঁকে তাঁর মাথায়-কপালে হাত বুলিয়ে কোমলস্বরে বলছেন, “সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও, সকলকে ক্ষমা করে দাও। এবার যাওয়ার সময় হয়েছে।” সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে হরিশকে গাজিয়াবাদ থেকে দিল্লির এইমসে নিয়ে আসা হয়েছে। এখানে ডাক্তারদের পরামর্শে ধীরে ধীরে লাইফ সাপোর্ট তুলে নেওয়া হবে। আরও পড়ুন: আজই বামেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা! তাড়াহুড়ো নিয়ে খোঁচা কুণালের

২০১৩ সালে পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া হরিশ তাঁর চারতলা পেয়িং গেস্ট থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান। এরপর তিনি কোমায় কোমায় চলে যান এবং পরে ভেজিটেটিভ স্টেটে চলে যান ছিলেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর অবস্থার আর উন্নতির সম্ভাবনা ছিল না। হরিশকে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখতে ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবার দেওয়া হত। ২০১৮ সালে শীর্ষ আদালত যে নির্দেশিকা দিয়েছিল তাতে ভেন্টিলেটরের মতো জীবনরক্ষাকারী যন্ত্র সরানোর কথা বলা হয়েছিল। শরীরে পুষ্টি পাঠানোর কৃত্রিম উপায় বন্ধ করা যাবে কি না তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা ছিল না। ফলে আইনি জটিলতার সম্ভাবনা দেখা দিলে হরিশ রানার বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন।

শীর্ষ আদালত ১১ মার্চ জানায়, এই ধরনের কেসে মৌলিক বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। ‘লাইফ সাপোর্ট’ চিকিৎসা রোগীর জন্য কার্যকরী উপকার করছে কি না তা দেখা জরুরী। রোগীর স্বার্থই এক্ষেত্রে সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাবে। ২০১৮ সালে কমন কেস বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া মামলায় সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবার মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। তবে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়ার (passive euthanasia) ঘটনা এটিই প্রথম।

–

–

–

–

–

–

