নির্বাচন কমিশনের (ECI) নির্দেশিকায় বিজেপির (BJP ) স্ট্যাম্প! অফিসিয়াল এই স্ট্যাম্পটাই প্রমাণ করে, নির্বাচন কমিশন বিজেপির বি-টিম। বিজেপির অপশাসনে আমাদের দেশের স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ এক উদ্বেগজনক অধঃপতন। নির্বাচন কমিশনের একটি নথি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বিজেপি ও কমিশনকে একহাত নিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, যারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়েছেন, তারাই এখন সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সংবিধানের মূল ভিত্তিকেই ক্ষয় করছেন। গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই বলে আসছে, বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বি-টিম হিসেবে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। এবার তাঁর অকাট্য প্রমাণ দিল তৃণমূল কংগ্রেস। সোশ্যাল মিডিয়ায় কমিশনের একটি চিঠি পোস্ট করে তৃণমূল দেখিয়ে দিয়েছে, সেই চিঠিতে রয়েছে বিজেপির স্ট্যাম্প। একটি রাজনৈতিক দলের স্ট্যাম্প লাগানো চিঠিতে প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে। তৃণমূল দ্ব্যর্থহীন ভাষায় দাবি করেছে, ওই স্ট্যাম্প বিজেপির। আর নির্বাচন কমিশন বিজেপির বি-টিম।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন, ঠিক এই কারণেই বিচার বিভাগীয় কর্তৃত্ব খর্ব করা হয়েছে এবং ভারতের প্রধান বিচারপতিকে সিইসি নির্বাচন প্যানেল থেকে অপসারণ করা হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে, অচিরেই সুপ্রিম কোর্টের রায়গুলোতে রাজনৈতিক ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের শেয়ার করা চিঠিটি ২০১৯ সালের মার্চ মাসের। ওই চিঠিতে প্রার্থীদের অপরাধমূলক অতীত সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কিছু নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। দেশের সমস্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠির নিচে দেওয়া ছিল বিজেপির স্ট্যাম্প।এখন প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার এবং রাজনৈতিক দলগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পালনের কথা জানিয়ে লেখা চিঠিতে কেন বিজেপির স্ট্যাম্প? বিজেপির স্ট্যাম্প লাগানো নির্বাচন কমিশনের চিঠি কী ইঙ্গিত করছে? এটাই কি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার পদক্ষেপ? যে চিঠিতে নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা বলছে, সেই চিঠিটিই কি পক্ষপাতদুষ্ট নয়? বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন কি তার জবাব দেবে? নির্বাচন কমিশনের নথিতে কীভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের চিহ্ন থাকতে পারে? নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেখানেই গুরুতর সন্দেহের প্রমাণ এই চিঠি।

–

–

–

–

–

–
