বাংলাদেশে (Bangladesh) পদ্মা নদীতে (Padma river) ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ফেরিতে ওঠার আগেই নদীতে তলিয়ে গেল যাত্রীবোঝাই বাস। ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত মহিলা ও শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার (Dhaka )উদ্দেশে দিয়ে বাসটি রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছয়। বাসের সিট ৪০ হলেও ৫৫ জনের মত যাত্রী নিয়ে ছিল বলে জানা গিয়েছে। ফেরিতে ওঠার সময়ই হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে জেটি থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায় বাসটি। মুহূর্তে উল্টে গিয়ে প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায় সেটি।

দুর্ঘটনার পরেই শুরু হয় জোরদার উদ্ধারকাজ। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চারটি ইউনিট এবং ১০ জন ডুবুরি ঘটনাস্থলে নামেন। তাঁদের সঙ্গে উদ্ধারকাজে যোগ দেয় সেনা, পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন। ডুবে থাকা বাসের ভিতর থেকেই ২২টি দেহ উদ্ধার করা হয়—যার মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১১ জন মহিলা এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। পরে উদ্ধার হওয়ার পর আরও দুই মহিলার মৃত্যু হওয়ায় মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪। আরও পড়ুন:ক্ষমতায় এলে বাংলাকে উত্তর প্রদেশ করার হুমকি দিলীপের

রাতের দিকে ক্রেনের সাহায্যে প্রায় ৬০ ফুট গভীরতা থেকে বাসটিকেও তুলে আনা হয়। বৃহস্পতিবারও জারি রয়েছে উদ্ধার অভিযান। তলিয়ে যাওয়া ওই বাসে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না, কারণ ঘাটে বাসটি থামার পর বেশ কয়েকজন যাত্রী বাইরে নেমেছিলেন। প্রশাসনের দাবি, এখনও পর্যন্ত নিখোঁজের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি, তবুও আরও যাত্রী আটকে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করা হয়েছে।

–

–

–

–

–

–

–
