মুর্শিদাবাদে বিজেপির তিন এজেন্ট – অধীর চৌধুরি, হুমায়ুন কবীর, নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী সাহিনা মমতাজ খানের সমর্থনে জনসভা করে বিরোধী এবং নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhisek Banarjee )। তাঁর কথায়,”কংগ্রেস, সিপিএম ও হুমায়ুনকে ভোট দেওয়া মানেই বিজেপিকে সমর্থন করা।”

অভিষেকের প্রশ্ন, যে অমিত শাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে, সেই অধীর চৌধুরী-হুমায়ুন কবীরকেও নিরাপত্তা দিচ্ছে, এখানে কোন সেটিং রয়েছে? অভিষেকের কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে রয়েছেন। তাঁকে নিরাপত্তা দেয় রাজ্যের পুলিশ। আর অধীর চৌধুরি (Adhir Chowdhury) এবং হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) নিরাপত্তা দেয় সিআরপিএফ (CRPF)। কেন?”

অভিষেক আরও বলেন, “আমি জানি, এ কথা বললেই ওঁরা বলবেন, রাজ্য পুলিশ ওঁদের নিরাপত্তা দেয় না। বাজে কথা। মানুষকে অত্যাচার করেছেন নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ। আপনি মানুষের প্রতিনিধি হলে তাঁদের নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকার আপনাকে নিরাপত্তা দেবে”।

অভিষেক বলেন, কে সেটিং করে রেখেছে মানুষ দেখতে পাচ্ছে। “দিল্লিতে সব প্রাক্তন সাংসদকে বাড়ি ছেড়ে দিতে হয়েছে। অথচ অধীর চৌধুরীর বাড়ি এখনও রয়েছে। বুঝুন সেটিং”।

অভিষেকের আরও অভিযোগ, এসআইআর-এ প্রায় ২৭ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। তৃণমূল বাদে কোনও নেতা এই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু তা নয়, কেন্দ্রের কাছে রাজ্যের বকেয়া পাওনা নিয়েও অধীর চৌধুরী কেন্দ্রের কাছে দাবি করেননি বা চিঠি লেখেননি। রাজ্যের দাবি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে তাঁর লড়াইয়ের প্রমাণ দেখাতে পারলে রাজনীতির ময়দান থেকে তিনি সরে যাবেন বলেও জানান তৃণমূল সাংসদ।

তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “প্রথম দফার নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ ঘাড় আর হাত ভাঙবে। পরের দফায় ডায়মন্ড হারবারে আমি এদের কোমর আর পা ভেঙে, বল হরি হরি বোল করে দেব।” বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, সারা দেশে বিভিন্ন দল ভেঙে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে, অথচ বাংলায় তৃণমূল একমাত্র দল যেখানে বিজেপি ভেঙে সবাই তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে। তাঁর দাবি, বিজেপিকে ভাঙার ক্ষমতা একমাত্র তৃণমূলের রয়েছে। আর কারও নেই।

আরও পড়ুন : চার্জশিট তো আপনার বিরুদ্ধে পেশ করা উচিত: অমিত শাহকে পাল্টা মমতা

সেই সঙ্গে সতর্ক করে দেন মুর্শিদাবাদের কর্মীদের। তিনি বলেন, দলের পতাকা নিয়ে, জোড়াফুল চিহ্ন নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছতে হবে। আগে নির্বাচনে জিততে হবে। উঠোনে বিজেপি একটা সাপ ছেড়ে দিয়েছে। সেই সাপটাকে আগে বাড়ি থেকে তাড়াতে হবে। তারপর ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই।

–

–
