বিজেপির (BJP) জোটের প্রস্তাব, রাজনৈতিক চাপ এমনকি তদন্ত সংস্থার তলব। সবকিছুকে উপেক্ষা করেই একক লড়াইয়ের পথ বেছে নিয়েছেন থালাপতি বিজয় (Thalapati Vijay)। আগে পুদুচেরির (Puducherry) প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বিজেপিকে বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। আর এবার তামিলনাড়ু (Tamilnadu) বিধানসভা নির্বাচনের ২৩৪টি আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে সেই বার্তাকে আরও স্পষ্ট করলেন। জোট রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ নিজের শক্তির উপর ভরসা করেই ভোটের ময়দানে নামছে তাঁর দল টিভিকে (TVK)। শুধু তাই নয়, নিজেও দুই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন চমক দিলেন অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা এই জনপ্রিয় নেতা। তাঁর এই পদক্ষেপ তামিলনাড়ুর নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিরোধী ভোট ভাগ করতে উঠে আসা নতুন শক্তি হিসেবে বিজয়ের দলকে জোটে আনতে বিজেপির তরফে একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি উপমুখ্যমন্ত্রিত্ব থেকে ২৩৪ আসনের মধ্যে প্রায় ৮০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে চেন্নাইতে দলীয় কর্মীদের নিয়ে রবিবার প্রার্থী (TVK candidate) তালিকা ঘোষণা করেন বিজয়। তিনি জানান, তিনি নিজেই পেরাম্বুর (Perambur) ও তিরুচিরাপল্লি পূর্ব (Tiruchirappalli East) এই দুই কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়বেন, যা তাঁর রাজনৈতিক অভিষেককে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

শুধু নিজেই ভোটে লড়ছেন না, নিজের ঘনিষ্ঠ নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী (TVK candidate) করেছেন বিজয়। এন আনন্দ (N Anand), আধব অর্জুনা (Adhav Arjuna), আর অরুণরাজ (R. Arunraj) থেকে শুরু করে সিটিআর নির্মল কুমার (CTR Nirmal Kumar) এবং কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ানকে (K. A. Sengottaiyan) বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী করেছেন তিনি। ভিলিভাক্কম, টি নগর, গোবিচেত্তিপালায়ম এবং তিরুপ্পারাঙ্কুন্দ্রমের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী দিয়ে শুরু থেকেই লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে টিভিকে। এতে স্পষ্ট, প্রথম নির্বাচনেই জোরদার ভাবে ময়দানে নামতে চাইছে বিজয়ের দল।

আরও পড়ুন : বিজেপিকে বুড়ো আঙুল: পুদুচেরিতে একা লড়বে বিজয়ের TVK

২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তিন বছর আগে দল গঠন করেছিলেন বিজয়, আর এবারই প্রথম বড় নির্বাচনে নামছে তাঁর দল। বিজয়ের দাবি, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন বিকল্প তুলে ধরতেই এই লড়াই। একদিকে রাজ্যের শাসকদল ডিএমকে-কে (DMK) পরাস্ত করা, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা বিরুদ্ধে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই বিজয়ের চ্যালেঞ্জ। তাঁর দলে প্রার্থী হিসাবে জায়গা পেয়েছেন ডিএমকে ছেড়ে আসা নেতারাও। তবে বিজেপির ভোটে কতটা ভাগ বসাতে বিজয় পারবেন, সেটা নির্বাচনের ফলাফলে প্রমাণিত হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে আলাদা লড়াই করলেও বিজয় বিজেপির এজেন্ট হিসাবে কাজ করছেন কি না তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে উঠেছে প্রশ্ন।

–

–

–

–

–
